০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬

বৈশ্বিক উন্মাদনায় চাপে উবে, ফিলিপাইনের পাহাড়ে কৃষকের লড়াই

ফিলিপাইনের পাহাড়ি প্রদেশ বেঙ্গুয়েতে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বেগুনি রঙের কন্দ এখন আর শুধু পারিবারিক রান্না বা উৎসবের উপকরণ নয়। বৈশ্বিক খাবারের বাজারে উবের জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী ফসল চাষে নেমে পড়া কৃষকেরা পড়েছেন কঠিন চাপে। বিশ্বজুড়ে বেগুনি রঙের মিষ্টি, কফি ও পেস্ট্রির চাহিদা বাড়লেও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা

উবের বৈশ্বিক উত্থান
নিউইয়র্ক থেকে প্যারিস, মেলবোর্ন থেকে এশিয়ার বড় শহর গুলোতে উবে তৈরি খাবার এখন নতুন ফ্যাশন। ফিলিপাইন প্রতিবছর প্রায় চৌদ্দ হাজার টনের বেশি উবে উৎপাদন করে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন কমে এসেছে, অথচ রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে স্থানীয় বাজারেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

কৃষকের বাস্তব সংকট
বেঙ্গুয়েতের পাহাড়ে ষাটের কোঠায় পৌঁছানো তেরেসিতা এমিলিও মাটি খুঁড়ে যত্নে তুলে আনেন উবে। এক সময় যেসব কন্দ অবহেলায় ফেলে দেওয়া হতো, এখন সেগুলো দুষ্প্রাপ্য। বেশি দামে বিক্রির কারণে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ হিসেবে কন্দ কেটে রাখার সুযোগ থাকছে না। নতুন চাষ শুরু করতে গিয়ে কৃষকেরা তাই বিপাকে পড়ছেন।

The World Wants More Ube. Philippine Farmers Are Struggling to Keep Up. -  The New York Times

জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত
উবে তুলনামূলকভাবে সহনশীল ফসল হলেও আবহাওয়ার ছন্দ ভেঙে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছে চাষ। কখনো অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি, কখনো তীব্র রোদ, আবার হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় পুরো জমি নষ্ট করে দিচ্ছে। বেশি বৃষ্টিতে কন্দ পচে যাচ্ছে, ঝড়ে পাতা নষ্ট হলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্ষতি হলে পরের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কৃষকের হাতে তেমন উপায় নেই।

সরকারি সহায়তা ও সাংস্কৃতিক উদ্বেগ
এই সংকটের মধ্যেই কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উবে চাষে সরকারি সহায়তা ও সীমিত হচ্ছে। অথচ উবে শুধু অর্থনৈতিক ফসল নয়, ফিলিপাইনের খাবারের ঐতিহ্যের অংশ। হালো হালো সহ নানা জনপ্রিয় মিষ্টান্ন উবের উপস্থিতি দেশটির সংস্কৃতির স্মারক। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যথাযথ সহায়তা না পেলে এই স্বাক্ষর ফসল ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গলে গড়া ভবিষ্যৎ রাজধানী, অপেক্ষার শহর নুসান্তারা

বৈশ্বিক উন্মাদনায় চাপে উবে, ফিলিপাইনের পাহাড়ে কৃষকের লড়াই

০৫:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ফিলিপাইনের পাহাড়ি প্রদেশ বেঙ্গুয়েতে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বেগুনি রঙের কন্দ এখন আর শুধু পারিবারিক রান্না বা উৎসবের উপকরণ নয়। বৈশ্বিক খাবারের বাজারে উবের জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই ঐতিহ্যবাহী ফসল চাষে নেমে পড়া কৃষকেরা পড়েছেন কঠিন চাপে। বিশ্বজুড়ে বেগুনি রঙের মিষ্টি, কফি ও পেস্ট্রির চাহিদা বাড়লেও মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা

উবের বৈশ্বিক উত্থান
নিউইয়র্ক থেকে প্যারিস, মেলবোর্ন থেকে এশিয়ার বড় শহর গুলোতে উবে তৈরি খাবার এখন নতুন ফ্যাশন। ফিলিপাইন প্রতিবছর প্রায় চৌদ্দ হাজার টনের বেশি উবে উৎপাদন করে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন কমে এসেছে, অথচ রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে স্থানীয় বাজারেও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

কৃষকের বাস্তব সংকট
বেঙ্গুয়েতের পাহাড়ে ষাটের কোঠায় পৌঁছানো তেরেসিতা এমিলিও মাটি খুঁড়ে যত্নে তুলে আনেন উবে। এক সময় যেসব কন্দ অবহেলায় ফেলে দেওয়া হতো, এখন সেগুলো দুষ্প্রাপ্য। বেশি দামে বিক্রির কারণে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ হিসেবে কন্দ কেটে রাখার সুযোগ থাকছে না। নতুন চাষ শুরু করতে গিয়ে কৃষকেরা তাই বিপাকে পড়ছেন।

The World Wants More Ube. Philippine Farmers Are Struggling to Keep Up. -  The New York Times

জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত
উবে তুলনামূলকভাবে সহনশীল ফসল হলেও আবহাওয়ার ছন্দ ভেঙে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছে চাষ। কখনো অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি, কখনো তীব্র রোদ, আবার হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় পুরো জমি নষ্ট করে দিচ্ছে। বেশি বৃষ্টিতে কন্দ পচে যাচ্ছে, ঝড়ে পাতা নষ্ট হলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্ষতি হলে পরের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কৃষকের হাতে তেমন উপায় নেই।

সরকারি সহায়তা ও সাংস্কৃতিক উদ্বেগ
এই সংকটের মধ্যেই কৃষি খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় উবে চাষে সরকারি সহায়তা ও সীমিত হচ্ছে। অথচ উবে শুধু অর্থনৈতিক ফসল নয়, ফিলিপাইনের খাবারের ঐতিহ্যের অংশ। হালো হালো সহ নানা জনপ্রিয় মিষ্টান্ন উবের উপস্থিতি দেশটির সংস্কৃতির স্মারক। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যথাযথ সহায়তা না পেলে এই স্বাক্ষর ফসল ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে।