টিকটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে ঘিরে নতুন করে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ভিডিওতে তাকে রাত এগারোটার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারির মতো কঠোর ঘোষণা দিতে দেখা গেছে। বাস্তবে এমন কোনো ঘোষণা তিনি দেননি। কিন্তু কণ্ঠস্বর ও মুখভঙ্গির নিখুঁত অনুকরণ অনেক দর্শককে ভুল বুঝিয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভুয়া ঘোষণার বিস্তার
অনলাইন বিভ্রান্তি নজরদারি সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, গত ছয় মাসে টিকটকে এমন ভুয়া ভিডিওর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। বেশিরভাগ ভিডিও ছড়ানো হয়েছে ব্রিটিশ নামধারী ভুয়া সংবাদ অ্যাকাউন্ট থেকে, যেগুলোর সম্মিলিত অনুসারী ছিল দশ লাখের বেশি। একটি ভিডিও কয়েক লক্ষবার দেখা হয়েছে এবং অল্প সময়ে তা অন্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনীতি নয়, আয়ের ফাঁদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভিডিও তৈরির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনা বড়। নির্দিষ্ট অনুসারী ও দর্শক সংখ্যা পূরণ হলেই টিকটকে নির্মাতারা আয়ের সুযোগ পান। ফলে চমকপ্রদ ও ভীতিকর বক্তব্য দিয়ে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি সফল ভুয়া ভিডিও থেকেই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ আয় করা সম্ভব।
সহজ প্রযুক্তি, বড় ঝুঁকি
সহজে ব্যবহারযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও টুলের বিস্তারে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। এতে রাজনৈতিক পরিবেশে বিভ্রান্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। গবেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে নির্বাচন ও জনমত প্রভাবিত করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কৃত্রিম কনটেন্টের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।
প্ল্যাটফর্মের প্রতিক্রিয়া
টিকটক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সব ভুয়া ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সরানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ধাপে ধাপে অনেক ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে। তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















