কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বিজিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই সদস্য নিজ সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার গভীর রাতে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গংগারহাট সীমান্ত ফাঁড়ির ভেতরে। সীমান্ত ফাঁড়ির সৈনিক ব্যারাকের কাছ থেকে গুলির শব্দ পাওয়া গেলে অন্য সদস্যরা সেখানে গিয়ে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিজিবি সদস্যের নাম নাসিম উদ্দিন। বয়স তেইশ বছর। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার খাজুরা গ্রামে। তিনি লালমনিরহাট বিজিবি পনেরো ব্যাটালিয়নের অধীনে ফুলবাড়ীর গংগারহাট সীমান্ত ফাঁড়িতে সিপাহি পদে কর্মরত ছিলেন।

সুরতহাল প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাসিম উদ্দিনের বুকের মাঝখানে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশ ও বিজিবির ধারণা, তিনি নিজের সার্ভিস রাইফেল ব্যবহার করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে নাসিম উদ্দিন সীমান্ত টহলে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় তিনি ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় সার্ভিস রাইফেল সঙ্গে নিয়েছিলেন। রাত প্রায় পৌনে একটার দিকে ব্যারাক এলাকার ভেতর থেকে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে সহকর্মীরা ছুটে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় পান।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহটি দেখে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ওই সিপাহি নিজের সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিজিবি পনেরো ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে বিজিবির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় কর্মরত সদস্যদের মানসিক চাপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















