০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারের নির্বাচনে সামরিকপন্থী দলের এগিয়ে থাকা, ভোট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে সেনাসমর্থিত দল। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এর প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রথম ধাপের ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয় পাচ্ছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

প্রথম ধাপের ফলাফল কী বলছে

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আংশিক ফল অনুযায়ী, ৫৬টি আসনের হিসাব শেষে নিম্নকক্ষ পিথু হ্লুতাওয়ের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জয় পেয়েছে সামরিকপন্থী দলটি। অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শান ন্যাশনালিটিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি ও মন ইউনিটি পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। আঞ্চলিক ও রাজ্য পরিষদের ঘোষিত ১৫টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেও এগিয়ে রয়েছে একই দল।

উচ্চকক্ষ আমিয়োথা হ্লুতাওয়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে, যেখানে জয় পেয়েছে ওয়া ন্যাশনাল পার্টি।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

সামরিক জান্তা দাবি করেছে, প্রথম ধাপে প্রায় বাহান্ন শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। তবে এই হার আগের দুই নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় সত্তর শতাংশের কাছাকাছি। কম ভোটার উপস্থিতিকে বিরোধী মত দমন ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

বিরোধী রাজনীতি ও নিষেধাজ্ঞা

এই নির্বাচনে কার্যত অনুপস্থিত প্রধান বিরোধী শক্তি। শান্তিতে নোবেলজয়ী ও সাবেক নেত্রী অং সান সু চি এখনো আটক রয়েছেন এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিলুপ্ত করা হয়েছে। জান্তা-সমালোচনামূলক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

সামনে আরও দুই ধাপ

নির্বাচনের আরও দুই দফা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানুয়ারির এগারো ও পঁচিশ তারিখে। এসব ধাপে দেশের অধিকাংশ টাউনশিপে ভোট হবে, যদিও অনেক এলাকায় এখনো সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে নিরাপত্তা ও ফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই একটি তথাকথিত বেসামরিক কাঠামো দাঁড় করাতে চাচ্ছে সামরিক জান্তা। তবে এমন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং–এর নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আস্থা এখনও খুবই সীমিত।

মিয়ানমারের নির্বাচনে সামরিকপন্থী দলের এগিয়ে থাকা, ভোট নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

০২:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে সেনাসমর্থিত দল। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এর প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রথম ধাপের ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয় পাচ্ছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

প্রথম ধাপের ফলাফল কী বলছে

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত আংশিক ফল অনুযায়ী, ৫৬টি আসনের হিসাব শেষে নিম্নকক্ষ পিথু হ্লুতাওয়ের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জয় পেয়েছে সামরিকপন্থী দলটি। অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে শান ন্যাশনালিটিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি ও মন ইউনিটি পার্টি একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। আঞ্চলিক ও রাজ্য পরিষদের ঘোষিত ১৫টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেও এগিয়ে রয়েছে একই দল।

উচ্চকক্ষ আমিয়োথা হ্লুতাওয়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে, যেখানে জয় পেয়েছে ওয়া ন্যাশনাল পার্টি।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

সামরিক জান্তা দাবি করেছে, প্রথম ধাপে প্রায় বাহান্ন শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। তবে এই হার আগের দুই নির্বাচনের তুলনায় অনেক কম। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় সত্তর শতাংশের কাছাকাছি। কম ভোটার উপস্থিতিকে বিরোধী মত দমন ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

বিরোধী রাজনীতি ও নিষেধাজ্ঞা

এই নির্বাচনে কার্যত অনুপস্থিত প্রধান বিরোধী শক্তি। শান্তিতে নোবেলজয়ী ও সাবেক নেত্রী অং সান সু চি এখনো আটক রয়েছেন এবং তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিলুপ্ত করা হয়েছে। জান্তা-সমালোচনামূলক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ থাকায় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

সামনে আরও দুই ধাপ

নির্বাচনের আরও দুই দফা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানুয়ারির এগারো ও পঁচিশ তারিখে। এসব ধাপে দেশের অধিকাংশ টাউনশিপে ভোট হবে, যদিও অনেক এলাকায় এখনো সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে নিরাপত্তা ও ফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যেই একটি তথাকথিত বেসামরিক কাঠামো দাঁড় করাতে চাচ্ছে সামরিক জান্তা। তবে এমন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং–এর নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আস্থা এখনও খুবই সীমিত।