পূর্ব আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে আবারও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার খবর এল। দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের লুবেরো এলাকায় তিনটি গ্রামে রাতের আঁধারে চালানো হামলায় অন্তত পনেরো জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের বেশির ভাগই সাধারণ বেসামরিক মানুষ। ধারাবাহিক এই হামলা অঞ্চলে নতুন করে ভয় আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়েছে।
রাতের হামলায় গ্রামগুলোতে মৃত্যু
স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে লুবেরোর কিলোঞ্জে, কাটাঙ্গা ও মায়েন্দেলো গ্রামে একযোগে আক্রমণ চালায় বিদ্রোহীরা। কিলোঞ্জে নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। কাটাঙ্গায় প্রাণ হারান দুজন। মায়েন্দেলোতে দুই বেসামরিক ও দুই সেনা নিহত হন। বাপেরে এলাকার প্রধান মাকার সিভিকুনুলা জানান, অধিকাংশ মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সেনাদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে।

বিদ্রোহীদের পরিচয় ও কৌশল
এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীটি হলো আলাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস। গোষ্ঠীটির জন্ম উগান্ডায় হলেও গত নব্বইয়ের দশক থেকে তারা কঙ্গোর গভীর অরণ্যে ঘাঁটি গেড়ে আছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট তাদের সহযোগী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হামলার সময় ঘরবাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়।
সেনা অভিযান চললেও থামছে না হামলা
কঙ্গোর সেনাবাহিনী এবং প্রতিবেশী উগান্ডার বাহিনী যৌথভাবে এডিএফের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও হামলা থামছে না। লুবেরোর সামরিক প্রশাসক আলাঁ কিওয়েভা শুক্রবার বিকেলে জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ষোলেও পৌঁছাতে পারে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, বিদ্রোহীদের পিছু ধাওয়া করা হচ্ছে, তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দাফনে বিলম্ব, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক
স্থানীয় নাগরিক সমাজের নেতা কাকুলে কাঘেনি সামুয়েল জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এলাকাটি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়ায় নিহতদের দাফনও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, শেষকৃত্যের আয়োজনকে ঘিরেও বিদ্রোহীরা আবার হামলা চালাতে পারে।
আগের সহিংসতার স্মৃতি
কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মোনুসকো এর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরেই এক সপ্তাহে এডিএফের হামলায় ঊননব্বই জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। তারও আগে সেপ্টেম্বর মাসে একটি জানাজায় হামলায় ষাটের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

বৃহত্তর সংঘাতের বাইরে আরেক সংকট
এডিএফের এই সহিংসতা আলাদা হলেও একই সময়ে কঙ্গোতে আরেকটি বড় সংঘাত চলছে। রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম টোয়েন্টি থ্রি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গত বছর হাজারো মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















