০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালী খুলেছে দাবি ইরানের, তবু শঙ্কা কাটেনি—১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে, বাজারে সতর্ক আশাবাদ কাঁচা বাজারে আগুনের তাপ, সবজির দামে হাঁসফাঁস সাধারণ মানুষ ফিলিপাইনের ধানচাষি: বাড়ছে খরচ, কমছে আয় মার্কিন নেতৃত্বের ভুলে বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে হরমুজ প্রণালীতে অনিশ্চয়তা: অনেক জাহাজ এখনও পথ এড়িয়ে চলছে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি: অস্ট্রেলিয়াকে উন্নত মোগামি যুদ্ধজাহাজ দিচ্ছে টোকিও ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকারের প্রথম বড় আইনগত পরাজয় ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বড় ঝুঁকি: তরুণদের সুরক্ষায় কঠোর অবস্থান চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন উত্তেজনা: চুক্তি না হলে ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে—ট্রাম্পের কড়া বার্তা হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা: চুক্তি না হলে ইরানের বন্দর অবরোধ বহাল রাখবে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভ ইস্যুতে সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন, প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

পাকিস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটজন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আদালতের রায় ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
লাহোরে অবস্থিত সন্ত্রাসবিরোধী আদালত জানায়, অভিযুক্তদের অনলাইন কার্যক্রম পাকিস্তানের আইনে সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে। আদালতের মতে, তাঁদের প্রচারিত কনটেন্ট সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছে। এই মামলাগুলোর সূত্রপাত হয় দুই হাজার তেইশ সালের নয় মে, যেদিন ইমরান খানের সাময়িক গ্রেপ্তারের পর তাঁর সমর্থকেরা দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর থেকেই সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানের দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে।

অনুপস্থিতিতেই সাজা
আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ার সময় আদালতে হাজির ছিলেন না। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীনে সেহবাই, বিশ্লেষক হায়দার রাজা মেহদি এবং মোঈদ পীরজাদা।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্কে বসবাসকারী ওয়াজাহাত সাঈদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁকে কখনো সমন পাঠানো হয়নি, কোনো মামলার নোটিস দেওয়া হয়নি এবং আদালত থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, এই রায় ন্যায়বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক নাটক, যেখানে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংগঠন আগেই এই তদন্তগুলোকে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের মামলা ও সাজা গণমাধ্যমকে ভীত করার পাশাপাশি সেন্সরশিপ আরও বাড়াবে।

অতিরিক্ত সাজা ও ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া
আদালত যাবজ্জীবনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডও ঘোষণা করেছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আরও কারাভোগের নির্দেশ রয়েছে। তবে এই রায় কার্যকর হওয়ার আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী খুলেছে দাবি ইরানের, তবু শঙ্কা কাটেনি—১৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আটকে, বাজারে সতর্ক আশাবাদ

পাকিস্তানে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভ ইস্যুতে সাংবাদিকদের যাবজ্জীবন, প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

০৬:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটজন সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আদালতের রায় ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট
লাহোরে অবস্থিত সন্ত্রাসবিরোধী আদালত জানায়, অভিযুক্তদের অনলাইন কার্যক্রম পাকিস্তানের আইনে সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে। আদালতের মতে, তাঁদের প্রচারিত কনটেন্ট সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছে। এই মামলাগুলোর সূত্রপাত হয় দুই হাজার তেইশ সালের নয় মে, যেদিন ইমরান খানের সাময়িক গ্রেপ্তারের পর তাঁর সমর্থকেরা দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর থেকেই সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানের দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে।

অনুপস্থিতিতেই সাজা
আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ার সময় আদালতে হাজির ছিলেন না। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীনে সেহবাই, বিশ্লেষক হায়দার রাজা মেহদি এবং মোঈদ পীরজাদা।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্কে বসবাসকারী ওয়াজাহাত সাঈদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁকে কখনো সমন পাঠানো হয়নি, কোনো মামলার নোটিস দেওয়া হয়নি এবং আদালত থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, এই রায় ন্যায়বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক নাটক, যেখানে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

গণমাধ্যম স্বাধীনতার প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংগঠন আগেই এই তদন্তগুলোকে সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের মামলা ও সাজা গণমাধ্যমকে ভীত করার পাশাপাশি সেন্সরশিপ আরও বাড়াবে।

অতিরিক্ত সাজা ও ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া
আদালত যাবজ্জীবনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডও ঘোষণা করেছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আরও কারাভোগের নির্দেশ রয়েছে। তবে এই রায় কার্যকর হওয়ার আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন।