০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতন, দুই শিশুকে ঘিরে তোলপাড় গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের আন্দোলন স্থগিত, ঈদের আগেই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস এপ্রিলে মব ভায়োলেন্সে ২২ নিহত, রাজনৈতিক সংঘাতে আরও ৬: এইচআরএসএস প্রতিবেদন ৩৯ কর্মকর্তার বড় রদবদল, এক দিনে বদলি ৯ ডিআইজি এক ভোটেই হার-জিত: তামিলনাড়ু ভোটে সাবেক মন্ত্রীর পরাজয়, ‘সারকার’-এর বার্তা ফের প্রমাণিত বাংলা-আসাম ফলাফল ঘিরে গণতন্ত্রে হুমকি, ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর সংসার যখন চালায় ভাগ্য, তখন অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে? গ্রামেও ভ্যাট বসাতে চায় সরকার, টোকেন কর নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ায় ম্যালেরিয়ার রেকর্ড সংক্রমণ, জলবায়ু ও মানুষের চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি

তাইওয়ান সংকটের প্রস্তুতি, কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত পরিসর বাড়ছে

দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী এবার শুধু কোরীয় উপদ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। তাইওয়ান ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায়, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে নিজেদের কার্যপরিসর আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ওয়াশিংটনের এই কৌশলগত পরিবর্তনের লক্ষ্য একদিকে উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত করা, অন্যদিকে ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্ত করা।

কোরিয়া কেন এখন আঞ্চলিক কৌশলের কেন্দ্র

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক আলোচনায় মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জানান, কোরিয়া শুধু উপদ্বীপের হুমকির জবাব দেওয়ার জায়গা নয়, বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাইওয়ান সংকটকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য একটি ভিন্ন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কোরীয় উপদ্বীপকে কেন্দ্র করে চীন, তাইওয়ান ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দূরত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া থেকে চীনের দিকে নজর

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধ করা। কিন্তু চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন কয়েক বছরের মধ্যেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এই আশঙ্কাই দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন বাহিনীকে আরও নমনীয় ও বহুমুখী করে তুলছে।

ঘাঁটি ও প্রযুক্তির কৌশলগত ব্যবহার

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় আটাশ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের প্রধান ঘাঁটি পিয়ংতেক এলাকায়। এই অবস্থান থেকে সহজেই উত্তর কোরিয়া, চীন ও তাইওয়ানের দিকে নজর রাখা সম্ভব। সম্প্রতি পশ্চিম উপকূলে একটি আধুনিক নজরদারি ড্রোন স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি হলুদ সাগরে চীনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগতে পারে। ঘাঁটির আশপাশে বিমানবন্দর ও বন্দর সুবিধা থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোও সহজ।

প্রথম দ্বীপমালা ঘিরে শক্তির লড়াই

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় প্রথম দ্বীপমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রেখা ধরে চীনের প্রশান্ত মহাসাগরে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চাপ

পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানসহ মিত্র দেশগুলোর ওপরও দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা এখন শুধু উপদ্বীপ নয়, পুরো অঞ্চলের শক্তির হিসাব-নিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে অস্বীকার: এরপর কী, কী বলছে নিয়ম

তাইওয়ান সংকটের প্রস্তুতি, কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কৌশলগত পরিসর বাড়ছে

১০:৫৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী এবার শুধু কোরীয় উপদ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। তাইওয়ান ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায়, দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা গড়ে তুলতে নিজেদের কার্যপরিসর আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ওয়াশিংটনের এই কৌশলগত পরিবর্তনের লক্ষ্য একদিকে উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত করা, অন্যদিকে ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্ত করা।

কোরিয়া কেন এখন আঞ্চলিক কৌশলের কেন্দ্র

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক আলোচনায় মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার জানান, কোরিয়া শুধু উপদ্বীপের হুমকির জবাব দেওয়ার জায়গা নয়, বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাইওয়ান সংকটকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক সময়ে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য একটি ভিন্ন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কোরীয় উপদ্বীপকে কেন্দ্র করে চীন, তাইওয়ান ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দূরত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতির কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া থেকে চীনের দিকে নজর

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধ করা। কিন্তু চীনের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এখন সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন কয়েক বছরের মধ্যেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এই আশঙ্কাই দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন বাহিনীকে আরও নমনীয় ও বহুমুখী করে তুলছে।

ঘাঁটি ও প্রযুক্তির কৌশলগত ব্যবহার

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় আটাশ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যাদের প্রধান ঘাঁটি পিয়ংতেক এলাকায়। এই অবস্থান থেকে সহজেই উত্তর কোরিয়া, চীন ও তাইওয়ানের দিকে নজর রাখা সম্ভব। সম্প্রতি পশ্চিম উপকূলে একটি আধুনিক নজরদারি ড্রোন স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি হলুদ সাগরে চীনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগতে পারে। ঘাঁটির আশপাশে বিমানবন্দর ও বন্দর সুবিধা থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা ও সরঞ্জাম পাঠানোও সহজ।

প্রথম দ্বীপমালা ঘিরে শক্তির লড়াই

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় প্রথম দ্বীপমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রেখা ধরে চীনের প্রশান্ত মহাসাগরে অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ কোরিয়াকে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চাপ

পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র জাপানসহ মিত্র দেশগুলোর ওপরও দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নীতিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা এখন শুধু উপদ্বীপ নয়, পুরো অঞ্চলের শক্তির হিসাব-নিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।