০২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি আইডাহোর ব্যস্ত বিপণি এলাকায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৭ হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত? ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের পার্লামেন্ট ঘেরাওয়ের পরও ছয় দিন ধরে চলেছে পাথর নিক্ষেপ, দিল্লিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক সরকারি সরঞ্জাম গুপ্তচরের ছায়াযুদ্ধ আবারও বিশ্বমঞ্চে, মৃত্যুকে সঙ্গী করে ফিরলেন জো সালদানা—শুরু ‘লায়নেস’-এর সবচেয়ে বিস্ফোরক মৌসুম পাতলা গড়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তি—আইফোন এয়ার ২-এ বড় পরিবর্তনের আভাস মৃত্যুর খেলায় কিশোরেরা! ইউরোপ কাঁপাচ্ছে ‘ফক্সট্রট’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই চলছে খুনি নিয়োগের গোপন অভিযান ট্রাম্প আপাতত ইরানে নতুন হামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য সমঝোতার দাবি বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি, জয় পেল না ইন্টার মায়ামি ‘লাভ আইল্যান্ড ইউকে’ কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? দর্শকদের অভিযোগ—‘প্রেমের চেয়ে নাটকই বেশি’

কিয়োটোর স্বাদে বিশ্বজয়, জাপানি ক্রাফট জিনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলছে কিয়োটো ডিস্টিলারি

কিয়োটোর ঐতিহ্য, জল আর উদ্ভিদের ঘ্রাণ মিলিয়ে যে জিন তৈরি হয়, তা আজ বিশ্ববাজারে জাপানের পরিচয় হয়ে উঠছে। কিয়োটো ডিস্টিলারি তাদের স্বতন্ত্র স্বাদ ও উৎপাদন দর্শনের জোরে আন্তর্জাতিক মদের দুনিয়ায় নতুন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইয়ুজু, সবুজ চা ও শিসো পাতার মতো দেশীয় উপাদানকে সামনে রেখে তৈরি এই জিন পশ্চিমা ধারার একঘেয়ে স্বাদের বাইরে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে।

Image

কিয়োটোর পুরনো শহরের এক ঐতিহ্যবাহী মাচিয়া বাড়িতে গড়ে ওঠা হাউস অব কি নো বি এখন বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রতি বছর প্রায় পনেরো হাজার দর্শনার্থী এখানে আসেন, যাদের বড় অংশই বিদেশি। স্বাদ গ্রহণের সেমিনারে জিন তৈরির ইতিহাস, উপাদান আর প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। অনেক পর্যটক ভাষার সীমা পেরিয়ে জাপানি ভাষার সেশনেও অংশ নেন, কেবল স্বাদ আর অভিজ্ঞতার টানে।

Image

উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিয়োটো ডিস্টিলারির পথ আলাদা। একসঙ্গে সব ভেষজ ভিজিয়ে পাতনের বদলে এখানে আলাদা আলাদা সুগন্ধ অনুযায়ী ছয়টি পাতনে এগারোটি উপাদান প্রস্তুত করা হয়, পরে সেগুলো মিশে তৈরি হয় চূড়ান্ত জিন। অ্যালকোহলের মাত্রা ঠিক করতে ব্যবহৃত হয় ফুশিমির তিনশ পঞ্চাশ বছরের পুরনো সাকের কারখানার ভূগর্ভস্থ জল, যা স্বাদের ভারসাম্য গড়ে তোলে।

দর্শনার্থী অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করতে নতুন কর্মশালাও চালু হয়েছে। কেউ নিজের বোতলের জন্য সোনালি পাতার লেবেল বানান, আবার সামনে এমন সেশন আসছে যেখানে পছন্দের পাতন মিশিয়ে নিজস্ব ব্লেন্ড তৈরির সুযোগ মিলবে। এই হাতেকলমে অভিজ্ঞতাই ক্রেতাদের ব্র্যান্ডের দূত বানাতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিরোইউকি নাগাই।

দুই ব্রিটিশ উদ্যোক্তা ও এক জাপানি নারীর হাত ধরে দুই হাজার চৌদ্দ সালে যাত্রা শুরু করা কিয়োটো ডিস্টিলারি দুই হাজার ষোলো সালে কিয়োটোর প্রথম স্পিরিটস লাইসেন্স পায়। দুই হাজার আঠারো সালে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষ পুরস্কার জিতে জাপানি জিনের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফরাসি প্রতিষ্ঠান পারনো রিকার্ডের অংশীদারিত্বে বিক্রির নেটওয়ার্ক পৌঁছে যায় বহু দেশে।

নতুন কারখানা চালু হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। লক্ষ্য দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে উৎপাদন সাত গুণে নেওয়া। তবু বিক্রির পরিমাণ শেষ কথা নয়। প্রিমিয়াম জিন হিসেবে গুণমানের সঙ্গে আপস না করার অঙ্গীকারই তাদের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার স্বপ্নকে পথ দেখাচ্ছে।

জাপানে জিনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, বিশেষ করে ইয়ুজু ও সবুজ চায়ের মতো স্বাদ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে জিনের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মানদণ্ড নির্ধারণের প্রশ্নও উঠছে, যাতে জাপানি জিনের সামগ্রিক ব্র্যান্ড শক্তি আরও দৃঢ় হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি

কিয়োটোর স্বাদে বিশ্বজয়, জাপানি ক্রাফট জিনকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলছে কিয়োটো ডিস্টিলারি

১১:০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

কিয়োটোর ঐতিহ্য, জল আর উদ্ভিদের ঘ্রাণ মিলিয়ে যে জিন তৈরি হয়, তা আজ বিশ্ববাজারে জাপানের পরিচয় হয়ে উঠছে। কিয়োটো ডিস্টিলারি তাদের স্বতন্ত্র স্বাদ ও উৎপাদন দর্শনের জোরে আন্তর্জাতিক মদের দুনিয়ায় নতুন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইয়ুজু, সবুজ চা ও শিসো পাতার মতো দেশীয় উপাদানকে সামনে রেখে তৈরি এই জিন পশ্চিমা ধারার একঘেয়ে স্বাদের বাইরে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে।

Image

কিয়োটোর পুরনো শহরের এক ঐতিহ্যবাহী মাচিয়া বাড়িতে গড়ে ওঠা হাউস অব কি নো বি এখন বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রতি বছর প্রায় পনেরো হাজার দর্শনার্থী এখানে আসেন, যাদের বড় অংশই বিদেশি। স্বাদ গ্রহণের সেমিনারে জিন তৈরির ইতিহাস, উপাদান আর প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। অনেক পর্যটক ভাষার সীমা পেরিয়ে জাপানি ভাষার সেশনেও অংশ নেন, কেবল স্বাদ আর অভিজ্ঞতার টানে।

Image

উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিয়োটো ডিস্টিলারির পথ আলাদা। একসঙ্গে সব ভেষজ ভিজিয়ে পাতনের বদলে এখানে আলাদা আলাদা সুগন্ধ অনুযায়ী ছয়টি পাতনে এগারোটি উপাদান প্রস্তুত করা হয়, পরে সেগুলো মিশে তৈরি হয় চূড়ান্ত জিন। অ্যালকোহলের মাত্রা ঠিক করতে ব্যবহৃত হয় ফুশিমির তিনশ পঞ্চাশ বছরের পুরনো সাকের কারখানার ভূগর্ভস্থ জল, যা স্বাদের ভারসাম্য গড়ে তোলে।

দর্শনার্থী অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করতে নতুন কর্মশালাও চালু হয়েছে। কেউ নিজের বোতলের জন্য সোনালি পাতার লেবেল বানান, আবার সামনে এমন সেশন আসছে যেখানে পছন্দের পাতন মিশিয়ে নিজস্ব ব্লেন্ড তৈরির সুযোগ মিলবে। এই হাতেকলমে অভিজ্ঞতাই ক্রেতাদের ব্র্যান্ডের দূত বানাতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিরোইউকি নাগাই।

দুই ব্রিটিশ উদ্যোক্তা ও এক জাপানি নারীর হাত ধরে দুই হাজার চৌদ্দ সালে যাত্রা শুরু করা কিয়োটো ডিস্টিলারি দুই হাজার ষোলো সালে কিয়োটোর প্রথম স্পিরিটস লাইসেন্স পায়। দুই হাজার আঠারো সালে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষ পুরস্কার জিতে জাপানি জিনের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফরাসি প্রতিষ্ঠান পারনো রিকার্ডের অংশীদারিত্বে বিক্রির নেটওয়ার্ক পৌঁছে যায় বহু দেশে।

নতুন কারখানা চালু হওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। লক্ষ্য দুই হাজার পঁয়ত্রিশ সালের মধ্যে উৎপাদন সাত গুণে নেওয়া। তবু বিক্রির পরিমাণ শেষ কথা নয়। প্রিমিয়াম জিন হিসেবে গুণমানের সঙ্গে আপস না করার অঙ্গীকারই তাদের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার স্বপ্নকে পথ দেখাচ্ছে।

জাপানে জিনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, বিশেষ করে ইয়ুজু ও সবুজ চায়ের মতো স্বাদ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে জিনের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মানদণ্ড নির্ধারণের প্রশ্নও উঠছে, যাতে জাপানি জিনের সামগ্রিক ব্র্যান্ড শক্তি আরও দৃঢ় হয়।