হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশায় কাবু দেশের উত্তরাঞ্চল। রংপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্য না উঠায় শীত যেন আরও ধারালো লাগছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। সকাল-রাতের কনকনে ঠাণ্ডায় কাজের সুযোগ কমছে। কমছে দৈনিক আয়ও। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখছেন।
শ্রমজীবী মানুষের আয় কমছে, পুরনো শীতবস্ত্রেই ভরসা
রংপুর শহরের বিভিন্ন বাজারে শীতবস্ত্রের কেনাকাটা বেড়েছে। স্টেশন বাজার, জামাল মার্কেট, ছালেক মার্কেট, হনুমানতলা ও এরশাদ হকার্স মার্কেটসহ নানা জায়গায় ভিড় চোখে পড়ছে। ফুটপাতের অস্থায়ী স্টলে নতুন-পুরনো পোশাক বিক্রি হচ্ছে দিনভর।

তবে নিম্নআয়ের মানুষের ঝোঁক বেশি পুরনো কাপড়ের দিকেই। রিকশাচালক সিরাজুল ইসলাম বলছেন, “দিনে যা আয় হয়, তাতে খাবার জোগাড়ই কষ্ট। নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই।” একই কথা শোনা যাচ্ছে দিনমজুর ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকেও।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর পুরনো কাপড়ের পাইকারি দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। ফলে চাপ পড়ছে ক্রেতার ওপর।
তাপমাত্রা নামছে, তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৮.৬ ডিগ্রি
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে রংপুরে ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৯, ডিমলায় ৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ দশমিক ৫, লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৫ এবং গাইবান্ধায় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা কাটতে সময় লাগছে। এতে শীত আরও তীব্র হচ্ছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে টানা কয়েক দিন সূর্যের দেখা না মেলার কথাও জানানো হয়েছে। সামনে আরও দুই-তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই শীত টিকে থাকার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত অসুস্থতা, সহায়তা নিয়ে অভিযোগও
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতজনিত জটিলতায় শিশু ও বয়স্কসহ প্রায় ২০০ জন ভর্তি হয়েছেন। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ঠাণ্ডাজনিত জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা বাড়ানো হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শীতের তীব্রতার তুলনায় সহায়তা এখনো কম। দ্রুত আরও কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি উঠেছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন প্রশাসন ও সমাজের সক্ষম মানুষের কার্যকর সহযোগিতার দিকেই তাকিয়ে আছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















