ক্লাউড ও স্টার্টআপদের প্রতিযোগিতা তীব্র
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপের বাজার ২০২৬ সালে প্রবল চাপের মুখে পড়েছে। ক্লাউড কোম্পানি ও প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো দ্রুত চিপ সংগ্রহের চেষ্টা করছে, কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা সেই গতিতে বাড়ছে না। ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
জেনারেটিভ এআই সেবা চালু রাখতে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কাজে এআই ব্যবহারের পরিসর বাড়ায় উচ্চক্ষমতার প্রসেসরের চাহিদা বেড়েছে। নির্মাতারা বলছেন, উন্নত প্যাকেজিং ও মেমোরি সংযোজনের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

উৎপাদন বাধা ও নকশা পরিবর্তন
চিপ প্রস্তুতকারকদের মতে, সমস্যা এখন শুধু ওয়েফার উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। ইন্টারকানেক্ট, হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি এবং বিশেষ যন্ত্রপাতির অভাব পুরো মডিউল তৈরি বিলম্বিত করছে। ফলে প্রস্তুত চিপ থাকলেও সম্পূর্ণ সিস্টেম বাজারে আনতে সময় লাগছে।
এই পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো শক্তি দক্ষতা বাড়ানো ও কম চিপে কাজ চালানোর দিকে ঝুঁকছে। কেউ কেউ কাজ ভাগ করে ছোট ক্লাস্টারে চালাচ্ছে, আবার কেউ সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে কম হার্ডওয়্যারে ফল পাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে এআই অবকাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিভিন্ন সরকার দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বাড়াতে প্রণোদনা দিচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে। স্বল্পমেয়াদে বড় ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পড়ছে চাপে।
বাজারের প্রভাব ও সামনে পথ
শীর্ষ এআই চিপের দাম এখনো বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি এআই গ্রহণে বাধা হতে পারে, তাই ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। অনেক স্টার্টআপ নিজস্ব হার্ডওয়্যার কেনার বদলে ক্লাউড ভাড়া নেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালের শেষের দিকে নতুন উৎপাদন সক্ষমতা চালু হলে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। ততদিন দক্ষতা, সফটওয়্যার উন্নয়ন ও বিকল্প স্থাপত্যই এআই খাতের গতি নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















