কারাকাসে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনায় ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে বড় মোড় এলেও মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার বদলে অনিশ্চয়তাই ঘনীভূত হয়েছে। পরিবর্তনের ঘোষণায় শহরের রাজপথে কৌতূহল দেখা গেলেও নিত্যদিনের বাস্তবতা বদলায়নি।
রাষ্ট্র বদলালেও বাস্তবতা একই
শাসকের বিদায়ে সংকট শেষ হয় না—এ কথা ভেনেজুয়েলার মানুষ বহুবার দেখেছে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি, ব্যক্তিগত আনুগত্যের রাজনীতি, সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাপট এবং ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠান এখনো সক্রিয়। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রান্তিক এলাকায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি ছায়ার মতো, অথচ সেবার নিশ্চয়তা নেই। এই দ্বন্দ্বই প্রতিদিনের জীবনকে অনিশ্চিত করে রাখছে।

বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সাধারণ মানুষ
বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবা অনিয়মিত হওয়ায় পরিবারগুলো টিকে আছে ক্ষুদ্র ব্যবসা, অনানুষ্ঠানিক কাজ আর পারিবারিক নেটওয়ার্কের ভরসায়। রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে নিজস্ব কৌশলই হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার উপায়। এতে সমাজে বৈষম্য বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা গভীর হচ্ছে।
শাভেজের স্বপ্ন থেকে পতনের পথ
একসময় তেলের আয় আর নির্বাচনী বৈধতার জোরে যে কাঠামো দাঁড়িয়েছিল, তা ধসে পড়ে তেলের বাজারের ধাক্কা ও ভুল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে। বিপ্লবী প্রতিশ্রুতির মুখ হয়ে ওঠা হুগো শাভেজ–এর পরবর্তী সময়ে সংকট আরও ঘনীভূত হয়। এর মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে; দেশ ছেড়েছে লাখ লাখ নাগরিক।

ক্ষমতার জাল এখনো অটুট
সরকারি সেবা ভেঙে পড়লেও নিয়ন্ত্রণের ধরন বদলে টিকে আছে ক্ষমতার জাল। কমিউনাল কাঠামো, নজরদারি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে এক জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। মাদুরোর বিদায়ে এই জাল রাতারাতি ভাঙার লক্ষণ নেই।
ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন
পরিবর্তন কেবল নতুন নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ নয়—এ কথা মানুষ বুঝে গেছে। তারা চায় নিরাপত্তা, কাজের সুযোগ এবং এমন একটি রাষ্ট্র যা নিজের দায়িত্ব পালন করবে। কে ক্ষমতায় থাকবে, তার চেয়েও জরুরি হলো ভাঙা ব্যবস্থার পুনর্গঠন কীভাবে হবে। সাময়িক ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য এলেও, ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ঘোষণার পরও দৈনন্দিন জীবনে স্থিতি আসেনি। শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সংকটের সমাধান নির্ভর করছে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও বিশ্বাস পুনর্গঠনের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















