আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে অতিরিক্ত শোক পালন এবং এক বা দুইটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভিআইপি ও ভিভিআইপি সুবিধা দেওয়ায় নির্বাচনী সমান মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মতে, এসব বিষয় নির্বাচনী সময়ে অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি বাড়াচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। বৈঠকে দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তিনি জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক দল বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে—এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।

ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে আপত্তি
গাজী আতাউর রহমান বলেন, এক বা দুইটি দলের প্রধান ভিভিআইপি প্রটোকল ভোগ করছেন, যা নির্বাচনী সমান মাঠ নিশ্চিত করার পথে স্পষ্ট বাধা। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।
শোক পালনের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও শোকাহত। তবে যেভাবে দেশজুড়ে শোক পালন করা হচ্ছে, তা নির্বাচনী সময়ে অতিরিক্ত। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে একাধিক দিনের শোক ঘোষণাকে তিনি অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনকালজুড়ে দীর্ঘ সময় শোক পালন চলতে থাকলে তা নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল যেন রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কামনা করেছে দলটি।

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে ধীরগতি
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গাজী আতাউর রহমান। তাঁর ভাষ্য, এখনো সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় সত্তর শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রতি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের যে গতি দেখা যায়, এবার তা তুলনামূলকভাবে ধীর বলে মনে করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
গণভোট নিয়ে আলোচনা কম
জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বিষয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত আলোচনা ও প্রচার নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এটি শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। কিন্তু এ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা খুব কম, এমনকি নির্বাচন কমিশনের মনোযোগও যথেষ্ট নয়। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে গণভোটের বিষয়টি ভুলে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















