পশ্চিম কাজাখস্তানের বিস্তীর্ণ তৃণভূমির বহু নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সামুদ্রিক জীবের শিলাস্তর আজ দেশটির অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তেঙ্গিজ নামে পরিচিত এই বিশাল তেলক্ষেত্র তিন দশকের বেশি সময় ধরে উৎপাদন চালিয়ে কাজাখস্তানকে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় আটচল্লিশ বিলিয়ন ডলারের সম্প্রসারণ প্রকল্প শেষ হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা আরও বেড়েছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মাঝেই তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা
তেঙ্গিজের বিস্তার ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
তেঙ্গিজ তেলক্ষেত্র কাজাখ অর্থনীতির প্রায় দশ শতাংশ জিডিপির সমান অবদান রাখে। দেশের মোট তেল উৎপাদনের বড় অংশ আসে এখান থেকেই। সম্প্রসারণ শেষে দৈনিক উৎপাদন প্রায় এক মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা এই ক্ষেত্রকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় এই উৎপাদন স্থিতিশীল ছিল।
রপ্তানি পথ ও ভূরাজনৈতিক চাপ
কাজাখস্তান স্থলবেষ্টিত হওয়ায় তেল রপ্তানি নির্ভর করে রাশিয়া হয়ে কৃষ্ণ সাগরের বন্দরের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে রপ্তানি অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে উৎপাদন কমাতে হয়। এতে তেঙ্গিজের মতো বিশাল প্রকল্পের ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ওপেক প্লাস ও উৎপাদন দ্বন্দ্ব
উৎপাদন বাড়ায় ওপেক প্লাস জোটের সঙ্গে কাজাখস্তানের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উৎপাদন কমাতে চাপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে সরকারের জন্য। বিশ্লেষকদের মতে, কাজাখস্তানের সামনে সহজ সমাধান নেই, কারণ আয় ধরে রাখাও জরুরি।
চুক্তি নবায়ন ও ভবিষ্যৎ দরকষাকষি
তেঙ্গিজ পরিচালনাকারী অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে দুই হাজার তেত্রিশ সালে। এর আগেই শুরু হয়েছে নতুন শর্ত নিয়ে আলোচনা। সরকারের লক্ষ্য বেশি রাজস্ব নিশ্চিত করা, আর অংশীদারদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা। এই আলোচনার ফলাফলই ঠিক করবে তেঙ্গিজের আগামী দশক।
স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক প্রভাব
তেঙ্গিজ প্রকল্প শুধু তেল উৎপাদন নয়, আশপাশের শহর ও জনজীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলটি দেশের অন্য অংশের তুলনায় উন্নত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাও এই প্রকল্পের বড় দিক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















