বাংলাদেশের নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক স্থিতিশীল লেনদেনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক বড় ধরনের পুনর্গঠনের পর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে এ উদ্যোগকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর এমনটাই জানিয়েছেন।
ব্যাংকিং খাতে আস্থার বার্তা
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, কার্যক্রম শুরুর প্রথম দুই দিনে জানুয়ারির এক তারিখ থেকে চার তারিখ পর্যন্ত গ্রাহকেরা মোট একশ সাত কোটি সাতাত্তর লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। একই সময়ে নতুন করে প্রায় চুয়াল্লিশ কোটি টাকা আমানত জমা পড়েছে। তাঁর ভাষায়, লেনদেনে কোনো অস্বাভাবিক চাপ না থাকাই প্রমাণ করে যে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ওপর গ্রাহকদের আস্থা তৈরি হয়েছে।
উত্তোলনের চেয়ে আমানত বেশি কিছু এলাকায়
গভর্নর জানান, কিছু এলাকায় উত্তোলনের তুলনায় আমানতের পরিমাণ বেশি ছিল, যা ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই সময়ে মোট তেরো হাজার তিনশ চৌদ্দটি উত্তোলন লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সাবেক এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকেরাই সবচেয়ে বেশি অংশ নেন। ছয় হাজার দুইশ পঁয়ষট্টি জন গ্রাহক ওই ব্যাংক থেকে মোট ছেষট্টি কোটি টাকা উত্তোলন করেন। একই সময়ে মোট আমানত দাঁড়ায় চুয়াল্লিশ কোটি টাকা।
দ্রুত সময়ে গঠিত নতুন ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক গঠিত হয়েছে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হওয়ার মাধ্যমে। নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গভর্নর বলেন, সাধারণত একটি নতুন ব্যাংক চালু হতে কয়েক বছর সময় লাগে। সেখানে মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আগ্রহপত্র পাওয়া থেকে শুরু করে পূর্ণ লেনদেন কার্যক্রমে পৌঁছানো একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত।
পর্ষদ গঠন ও তদারকি
ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। আপাতত সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিরা ব্যাংকের কার্যক্রম তদারকি করছেন। শিগগিরই একজন চার্টার্ড হিসাববিদ, একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন গভর্নর।
চ্যালেঞ্জ, অডিট ও জবাবদিহি
ভবিষ্যতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে সিস্টেম একীভূতকরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি তুলে ধরেন গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি দল পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম এক করার কাজ করছে। একই সঙ্গে অতীতের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কর্মীদের ছাঁটাই করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাঁচটি ব্যাংকই কঠোর ফরেনসিক অডিটের আওতায় আসবে।
উদ্বোধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারির উনিশ তারিখ। গভর্নর আরও বলেন, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার হার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং প্রবৃদ্ধি সহায়তায় নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপগভর্নর নূরুন নাহার, সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আয়ুব মিয়া এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















