মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এখন জরুরি ভিত্তিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে যাতে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে না পড়ে এবং ইরানে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত হয়।
শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ছে তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।
১৯৮৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন। শিয়া ইসলামী রাষ্ট্রটির ৩৭ বছরের শাসনামলে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন এবং পারমাণবিক উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নেন। দেশের অভ্যন্তরে তার শাসনব্যবস্থা বিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করার জন্য তীব্র সমালোচিত ছিল। তার উত্তরসূরি কে হবেন, তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের শৃঙ্খলা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী শাসনব্যবস্থা এখন অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার শূন্যতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রতিবেশী দেশগুলিও প্রভাবিত হবে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের উচিত ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া মসৃণ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুকে “ইরানি জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের একক বৃহত্তম সুযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং জনগণকে বিদ্রোহে উঠতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার প্রস্থানের কৌশল স্পষ্ট নয়। ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র যেন সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত না করে এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদে জড়িয়ে না পড়ে—সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই হামলার যথেষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। একটি দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে পরিচালিত হলেও তার নেতাকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক নিয়মের সীমা অতিক্রম করার শামিল। এমন অযৌক্তিক সামরিক পদক্ষেপকে অনুমোদন দেয়—এমন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা গ্রহণযোগ্য নয়।
খবর অনুযায়ী, খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিপ্লবী গার্ডের নেতাসহ দুই শতাধিক মানুষ ইরানজুড়ে নিহত হয়েছেন। কঠোর পাল্টা হামলার অঙ্গীকার করে ইরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও কিছু আঘাত হেনেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার এই চক্র বন্ধ করা জরুরি। জ্বালানি সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো। অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিক্কেই সম্পাদকীয় 

















