০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২ সিরাজগঞ্জে সেচ নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১৯ রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত এক, আহত ৭ ইরানের ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধের বিস্তার রোধ করতে হবে ইরানে হামলার আগে মোদির ইসরায়েল সফর নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা ইরানের পর ট্রাম্প, তেল ও তাইওয়ান নিয়ে কঠিন হিসাবের মুখে চীন পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য বাগরাম ঘাঁটি, দাবি আফগানিস্তানের রফতানিতে বড় ধাক্কা: ফেব্রুয়ারিতে তৈরি পোশাকে পতন ১৩ শতাংশের বেশি, চাপে অর্থনীতি

ইরানের পর ট্রাম্প, তেল ও তাইওয়ান নিয়ে কঠিন হিসাবের মুখে চীন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ঠিক চার সপ্তাহ পর বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। তবে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেই বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চীনের সতর্ক প্রতিক্রিয়া

হামলার পর চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খামেনির হত্যাকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ওয়াশিংটনের জন্য আলোচনা প্রায়ই স্থায়ী সমাধানের পথ নয়, বরং সামরিক পদক্ষেপের আগে সাময়িক বিরতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা ট্রাম্প-শি বৈঠকের ওপর ছায়া ফেলতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের অধ্যাপক মিনসিন পেই মনে করেন, চীনের অভিজাত মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাস করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি মনে করেন বৈঠক বাতিল নাও হতে পারে, তবে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানি রাসেল বলেন, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দুই নেতা যে সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, সেটি টিকিয়ে রাখতে চীন বৈঠক চায়। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শি জিনপিং বৈঠক পিছিয়ে দিতে পারেন।

ইরান, ভেনেজুয়েলা ও পানামা—চীনের ঘনিষ্ঠদের ওপর চাপ

ইরান শুধু চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, তেলের বড় সরবরাহকারীও। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে এবং পানামা খালে চীনা প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বেইজিংকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে।

রাসেলের ভাষায়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন সমীকরণ

অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ তাকে দুর্বল নয় বরং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। আগে ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল করায় ট্রাম্প দুর্বল হয়ে বেইজিং যাচ্ছেন। এমনকি তাইওয়ানের জন্য ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি বিলম্বিত হওয়াকেও শি জিনপিংয়ের প্রতি ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

হাডসন ইনস্টিটিউটের গবেষক জিনেব রিবুয়া মনে করেন, ইরান অভিযানের পর এই ব্যাখ্যা বদলে গেছে। এখন এটি শক্ত অবস্থান থেকে দেওয়া কৌশলগত ছাড় হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত কম ব্যস্ত থাকবে, তত বেশি মনোযোগ দিতে পারবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে।

চীনের অংশীদার নেটওয়ার্ক সংকুচিত?

রোডিয়াম গ্রুপের অংশীদার আগাথা ক্রাটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে চীনের অংশীদার নেটওয়ার্ক সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াই মূল ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে।

রবিবার চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফোনালাপে হামলার বিরোধিতা করেন। চীনের ওয়াং ই এটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং শাসন পরিবর্তনের উসকানি বলে উল্লেখ করেন।

তেলের বাজার ও চীনের অর্থনীতি

চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানির বড় অংশই চীন ছাড়মূল্যে আমদানি করে। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি সই করে, যার আওতায় চীন ৪০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি তেল পুরোপুরি অপ্রতিস্থাপনীয় নয়, তবে দাম বাড়লে চীনের চাপে থাকা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ে বার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনের আগে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের সীমিত কৌশলগত পরিসর

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে চীনের প্রতিক্রিয়া সংযত হওয়ার কারণ তার কৌশলগত সীমাবদ্ধতা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে চীনের ওপর বড় প্রভাব পড়বে, যদিও রাশিয়া থেকে আমদানি কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

চ্যাথাম হাউসের আহমেদ আবৌদুহ মনে করেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণ করছে। তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প হিসেবে দেখে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে শক্তি প্রয়োগকে স্বাভাবিক করে তোলে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইরানের ভবিষ্যৎ ও চীনের হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পারে। তবে বড় ঝুঁকি হলো—যদি ইরানে এমন এক রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও উপসাগরীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয়, তাহলে নতুন সরকার চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বে আগ্রহী নাও হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সামনে কঠিন হিসাব—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, তেলের বাজারের অনিশ্চয়তা এবং তাইওয়ান প্রশ্নে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা। আগামী সপ্তাহগুলোই নির্ধারণ করবে, বেইজিং বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলে কোন অবস্থান থেকে দুই নেতা আলোচনায় বসবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

ইরানের পর ট্রাম্প, তেল ও তাইওয়ান নিয়ে কঠিন হিসাবের মুখে চীন

০৭:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর ঠিক চার সপ্তাহ পর বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। তবে বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেই বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চীনের সতর্ক প্রতিক্রিয়া

হামলার পর চীনের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খামেনির হত্যাকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার এক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ওয়াশিংটনের জন্য আলোচনা প্রায়ই স্থায়ী সমাধানের পথ নয়, বরং সামরিক পদক্ষেপের আগে সাময়িক বিরতি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা ট্রাম্প-শি বৈঠকের ওপর ছায়া ফেলতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনা কলেজের অধ্যাপক মিনসিন পেই মনে করেন, চীনের অভিজাত মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বাস করার প্রবণতা বাড়ছে। তিনি মনে করেন বৈঠক বাতিল নাও হতে পারে, তবে পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানি রাসেল বলেন, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে দুই নেতা যে সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, সেটি টিকিয়ে রাখতে চীন বৈঠক চায়। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে শি জিনপিং বৈঠক পিছিয়ে দিতে পারেন।

ইরান, ভেনেজুয়েলা ও পানামা—চীনের ঘনিষ্ঠদের ওপর চাপ

ইরান শুধু চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, তেলের বড় সরবরাহকারীও। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে এবং পানামা খালে চীনা প্রভাব কমাতে পদক্ষেপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বেইজিংকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে।

রাসেলের ভাষায়, এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন সমীকরণ

অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ তাকে দুর্বল নয় বরং শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। আগে ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল করায় ট্রাম্প দুর্বল হয়ে বেইজিং যাচ্ছেন। এমনকি তাইওয়ানের জন্য ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি বিলম্বিত হওয়াকেও শি জিনপিংয়ের প্রতি ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

হাডসন ইনস্টিটিউটের গবেষক জিনেব রিবুয়া মনে করেন, ইরান অভিযানের পর এই ব্যাখ্যা বদলে গেছে। এখন এটি শক্ত অবস্থান থেকে দেওয়া কৌশলগত ছাড় হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত কম ব্যস্ত থাকবে, তত বেশি মনোযোগ দিতে পারবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে।

চীনের অংশীদার নেটওয়ার্ক সংকুচিত?

রোডিয়াম গ্রুপের অংশীদার আগাথা ক্রাটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে চীনের অংশীদার নেটওয়ার্ক সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমানে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াই মূল ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে।

রবিবার চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফোনালাপে হামলার বিরোধিতা করেন। চীনের ওয়াং ই এটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং শাসন পরিবর্তনের উসকানি বলে উল্লেখ করেন।

তেলের বাজার ও চীনের অর্থনীতি

চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানির বড় অংশই চীন ছাড়মূল্যে আমদানি করে। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি সই করে, যার আওতায় চীন ৪০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি তেল পুরোপুরি অপ্রতিস্থাপনীয় নয়, তবে দাম বাড়লে চীনের চাপে থাকা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ে বার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনের আগে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের সীমিত কৌশলগত পরিসর

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে চীনের প্রতিক্রিয়া সংযত হওয়ার কারণ তার কৌশলগত সীমাবদ্ধতা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে চীনের ওপর বড় প্রভাব পড়বে, যদিও রাশিয়া থেকে আমদানি কিছুটা সুরক্ষা দেয়।

চ্যাথাম হাউসের আহমেদ আবৌদুহ মনে করেন, চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুসরণ করছে। তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প হিসেবে দেখে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে শক্তি প্রয়োগকে স্বাভাবিক করে তোলে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইরানের ভবিষ্যৎ ও চীনের হিসাব

বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে আরও কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পারে। তবে বড় ঝুঁকি হলো—যদি ইরানে এমন এক রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও উপসাগরীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয়, তাহলে নতুন সরকার চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বে আগ্রহী নাও হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সামনে কঠিন হিসাব—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা, তেলের বাজারের অনিশ্চয়তা এবং তাইওয়ান প্রশ্নে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা। আগামী সপ্তাহগুলোই নির্ধারণ করবে, বেইজিং বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলে কোন অবস্থান থেকে দুই নেতা আলোচনায় বসবেন।