নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনের সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। পূর্বসূরি মেয়রের জারি করা কয়েকটি নির্বাহী নির্দেশ বাতিল করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। তাদের ভাষায়, এই পদক্ষেপ ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সতর্কতার জায়গায় নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে।
প্রথম দিনের সিদ্ধান্তে কেন এত প্রতিক্রিয়া
দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র মামদানি আগের প্রশাসনের জারি করা একাধিক নির্দেশ বাতিল করেন। এর মধ্যে ছিল ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্দেশ এবং ইসরায়েল বয়কটের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। যদিও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় শহর পর্যায়ে একটি দপ্তর চালু রাখার নির্দেশ পুনর্বহাল করা হয়েছে, তবু ওই দুই নির্দেশ বাতিলই ইসরায়েলকে সবচেয়ে ক্ষুব্ধ করেছে।

ইসরায়েলের তীব্র ভাষা ও কূটনৈতিক কৌশল
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বের প্রথম দিনেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে দেয় এবং এটি উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢালার মতো। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ইহুদি বিদ্বেষ মূলক হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল এখন যেকোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ভাবে দেখছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও উদ্বেগ
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বেড়েছে বলে ইসরায়েলের দাবি। অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পরও বিভিন্ন দেশের নেতাদের বক্তব্যে ইহুদি ও ইহুদিবিদ্বেষ শব্দের অনুপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।

মেয়রের ব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক অবস্থান
মেয়র মামদানির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া নয়। কয়েক মাস ধরে প্রশাসনিক পর্যালোচনার পরই আগের মেয়রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনআস্থা ফেরানোর অংশ হিসেবে নির্দেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় এবং এটিকে ইচ্ছাকৃত নেতিবাচক বার্তা বলেই দেখছে।
সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা
ইহুদি বিদ্বেষের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সংজ্ঞা বহু দেশ ও শহর গ্রহণ করলেও এর সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সংজ্ঞা প্রায়ই ইসরায়েল সমালোচনাকে ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবে চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই বিতর্কের মধ্যেই নিউইয়র্কের মেয়রের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামনে কী হতে পারে
ইসরায়েল সরকার আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সামনে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সংগঠনগুলোও মেয়রের কিছু সিদ্ধান্তে আপত্তি জানালেও ইহুদি বিদ্বেষ মোকাবিলায় ধারাবাহিক নেতৃত্ব প্রত্যাশার কথা বলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















