চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির এক নেতার মৃত্যুকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণ
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, সোমবার রাতে অস্ত্র উদ্ধারের নামে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করেন। পরে তাকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার করা হয়, যার ফলেই তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।
আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ
মির্জা ফখরুল বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য ভালো নয় এবং এতে আইনের শাসন দুর্বল হয়। তার মতে, নির্যাতনের মাধ্যমে শামসুজ্জামান ডাবলুকে হত্যা করা দেশের প্রচলিত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রত্যাশা
বিএনপি মহাসচিব জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশের মানুষ আশা করে—যে কোনো অপরাধের বিচার হবে আদালতের মাধ্যমে। অস্ত্র উদ্ধারের নামে কাউকে আটক করে নির্মম নির্যাতনে হত্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি
এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

শোক ও সমবেদনা
বিএনপি মহাসচিব নিহত শামসুজ্জামান ডাবলুর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এলাকাজুড়ে প্রতিক্রিয়া
সেনা হেফাজতে স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর খবর জীবননগরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ
শামসুজ্জামান ডাবলু, বয়স ৫০, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। সোমবার মধ্যরাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে সেনা অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়। পরিবারের সদস্য ও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে—যা এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















