চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় একটি ফার্মেসি থেকে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধারের পর পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
ঘটনার পটভূমি
আইএসপিআরের তথ্যমতে, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার সন্দেহে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিবরণ
তল্লাশি চালিয়ে ওই ফার্মেসি থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলে আইএসপিআর জানায়।
হঠাৎ অসুস্থতা ও মৃত্যু
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় একপর্যায়ে শামসুজ্জামান ডাবলু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআরের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, অভিযানে জড়িত সব সেনা সদস্যকে, ক্যাম্প কমান্ডারসহ, প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে যাদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, সেনা হেফাজতে এক স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় জীবননগর উপজেলায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে এবং এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ দেখা যায়।

নিহতের পরিচয়
নিহত শামসুজ্জামান ডাবলু চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এরপর সেনা সদস্যরা তাকে আটক করেন।
পরিবার ও বিএনপির অভিযোগ
নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, হেফাজতে নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান দাবি করেন, অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং সেই নির্যাতনই ডাবলুর মৃত্যুর কারণ।
পুলিশ ও ময়নাতদন্ত
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ডাবলুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















