ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ আরও তীব্র করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি ইরানের জনগণকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে এবং নির্যাতনকারীদের নাম মনে রাখতে বলেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শিগগিরই তাদের জন্য সাহায্য আসছে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বার্তায় ইরানের প্রতিবাদকারীদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান এবং বলেন, হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করতে হবে, কারণ একদিন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল রাখা হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইরান সরকার সরাসরি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া ও সহিংসতায় প্ররোচনা হিসেবে আখ্যা করেছে।

মৃত্যু ও আটক নিয়ে ভয়াবহ তথ্য
ইরানি এক কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতায় প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতদের বড় অংশই বিক্ষোভকারী। পাশাপাশি কয়েক দিনে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় সতেরো হাজারে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরানে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, কারাজ শহরে আটক এক তরুণকে শিগগিরই ফাঁসি দেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তবে সেই পদক্ষেপের ধরন সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ ও প্রতিক্রিয়া
ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতার জন্য দায়ী করছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ
ডিসেম্বরের শেষ দিকে মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। যদিও সরকার একদিকে কঠোর দমননীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষকে বৈধ বলে স্বীকার করছে। তবুও এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ভেতরে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত দেখা যায়নি।

ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইউরোপের একাধিক দেশ ইরানের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে দমননীতির প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই তার ধারণা। সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপ একসঙ্গে বেড়েই চলেছে।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















