দুই হাজার ছাব্বিশ সালকে সামনে রেখে রাশিয়া তার সামরিক কাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। স্থল, নৌ, আকাশ ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই একযোগে আসছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র ও ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক যুদ্ধ অভিজ্ঞতার আলোকে পুরোনো প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন এবং নতুন ব্যবস্থার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিই এই রূপান্তরের মূল চালিকা শক্তি। রাশিয়ার সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স এখন টিকে থাকার ক্ষমতা, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষকে অপ্রত্যাশিত চাপে রাখার কৌশলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সু সত্তর পাঁচ
দুই হাজার ছাব্বিশ সালে প্রথম উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে রাশিয়ার নতুন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সু সত্তর পাঁচ। একক ইঞ্জিন ও একক আসনের এই সুপারসনিক যুদ্ধবিমানটি আধুনিক স্টেলথ নকশা ও উচ্চ গতিশীলতার জন্য তৈরি। আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি ভূমিতে আঘাত হানার সক্ষমতা থাকায় এটি রুশ বিমানবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে যাচ্ছে। পুরোনো মিগ উনত্রিশের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এই বিমান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রতিযোগিতার মুখ তৈরি করবে।

পারমাণবিক সাবমেরিন খাবারভস্ক
সমুদ্রের নিচে কৌশলগত শক্তি বাড়াতে দুই হাজার ছাব্বিশ সালেই সমুদ্র পরীক্ষায় যাচ্ছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন খাবারভস্ক। এটি বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে পসেইডন নামের মানববিহীন পারমাণবিক জলযান বহনের জন্য। সাবমেরিনটির নকশায় আগের বোরেই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হয়েছে, যা একে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে তুলেছে। রুশ নৌবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতায় এটি এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র
পুরোনো তোপোল এম ক্ষেপণাস্ত্রের জায়গায় নতুন প্রজন্মের কঠিন জ্বালানি ভিত্তিক আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। দুই হাজার ছাব্বিশ থেকে সাতাশের মধ্যে এগুলো ধাপে ধাপে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত প্রপেল্যান্ট ও সম্ভাব্য অতিদ্রুত গ্লাইডিং ওয়ারহেড ব্যবহার করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাশিয়ার কৌশলগত শক্তিকে আরও আধুনিক করে তুলবে।

সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত ধাপ
রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র এখন পরীক্ষার শেষ ধাপে। সফল হলে এটি পুরোনো ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করবে। একাধিক ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা এবং অতিদ্রুত গ্লাইডিং প্রযুক্তির কারণে সারমাতকে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির প্রধান প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমুদ্রে অতিদ্রুত জিরকন
জিরকন ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যেই কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে এবং দুই হাজার ছাব্বিশ সালে এর উৎপাদন আরও বাড়বে। ইয়াসেন এম শ্রেণির নতুন সাবমেরিনে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ায় রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ও আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
অ্যাডমিরাল নাখিমভের প্রত্যাবর্তন

ভারী পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ অ্যাডমিরাল নাখিমভের সমুদ্র পরীক্ষা দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও চলবে। সম্পূর্ণ কার্যকর হলে এটি রুশ নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজে পরিণত হবে এবং বিশ্ব সামুদ্রিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এস পাঁচশ প্রমিথিউস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এস পাঁচশ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে মোতায়েন করা হচ্ছে। আকাশ ও মহাকাশ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা রাশিয়ার কৌশলগত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ড্রোন ও রোবটের নতুন অধ্যায়

শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রতিরোধ ড্রোন তৈরি করছে রাশিয়া। পাশাপাশি ভূমিতে মানববিহীন রোবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আহত পরিবহন, গোলাবারুদ সরবরাহ ও সরাসরি আক্রমণে এসব রোবট ভবিষ্যতে নিয়মিত সামরিক কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে।
আধুনিক কামান কোয়ালিৎসিয়া
স্থলবাহিনীর জন্য আসছে নতুন কোয়ালিৎসিয়া স্বচালিত কামান। আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের কারণে এটি রুশ স্থলবাহিনীর আগ্নেয় শক্তিকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ চিত্র
সব মিলিয়ে দুই হাজার ছাব্বিশ সাল রাশিয়ার সামরিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। সংখ্যার চেয়ে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে রাশিয়া তার প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও টেকসই ও কার্যকর করে তুলছে। এই পরিবর্তন শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















