বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নানা ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবার কলকাতার আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই। এক সময় নিয়মিত উপস্থিত থাকা বাংলাদেশের কোনো স্টল বা প্যাভিলিয়ন থাকছে না এবারের আয়োজনে।
৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আয়োজন
তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি কলকাতায় শুরু হচ্ছে ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এ বছর সরাসরি ও যৌথভাবে অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজারের বেশি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করবে এই বইমেলায়, যা আয়োজনের ব্যাপ্তি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করছে।
বাংলাদেশের অনুপস্থিতি
এর আগে ২০২৫ সালে সল্টলেকের করুণাময়ী বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ৪৮তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো স্টল ছিল না। এবছরও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের কারণে দ্বিতীয়বারের মতো কলকাতা বইমেলায় অনুপস্থিত থাকছে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন।
থিম দেশ ও উদ্বোধনী আয়োজন
এবারের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার থিম দেশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ২২ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার খ্যাতিমান সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোত্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কবি, সাহিত্যিক ও বিভিন্ন মন্ত্রীবর্গও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি সাহিত্যিকদের অনুপস্থিতি
এবারের বইমেলায় কোনো বাংলাদেশি কবি, সাহিত্যিক বা লেখকের উপস্থিতি থাকছে না। এটি দুই দেশের সাহিত্যিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মেলার সময়সূচি ও অন্যান্য তথ্য
২২ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৩ দিন চলবে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।
প্যাভিলিয়নের পরিবর্তন
যে স্থানে আগে বাংলাদেশি প্যাভিলিয়ন থাকত, সেখানে এবছর দেখা যাবে আর্জেন্টিনা ও পেরুর প্যাভিলিয়ন। এই পরিবর্তন বইমেলার ভৌগোলিক বিন্যাসের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতাকেও প্রতিফলিত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















