০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নতুন সংজ্ঞা: যুদ্ধ নাকি কৌশলগত শক্তি? টানা সাত দিন উড়তে পারে যে বিমান, এড়াতে পারে পারমাণবিক হামলার প্রভাব ট্রাম্পের ভাষা এখন রাজনীতির নতুন ট্রেন্ড, ডেমোক্র্যাটদের মুখেও কড়া শব্দ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে শেখা কৌশলে নতুন অস্ত্র পরীক্ষা হিজবুল্লাহর পাল্টা আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত ইরানে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ: শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, পুনর্গঠনে লাগবে বহু বছর হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা: মার্কিন নৌবাহিনীর প্রবেশের দাবি, ইরানের সরাসরি অস্বীকার পোষা প্রাণীর খেলনা থেকে যুদ্ধ ড্রোন: ইউক্রেনের প্রযুক্তি খাতে বড় রূপান্তর ব্রিটেনে ‘ধর্মে ফেরার ঢেউ’ আসলে ভুল ধারণা, গবেষণার তথ্যেই ধরা পড়ল বাস্তবতা –চাঁদের পথে মানুষের নতুন অনুভব: মহাকাশযাত্রায় বদলে যাচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি

মাচাদো বললেন, ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পদক উপহার দিয়েছেন

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি নিজের নোবেল শান্তি পদক ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে হওয়া এই বৈঠককে তিনি ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। এই সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নোবেল পদক দেওয়ার পেছনের বার্তা
মাচাদো সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই পদক দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প আদৌ সেই পদক গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট আগেই জানিয়েছে—নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগ বা বাতিল করা যায় না। অর্থাৎ পদক দেওয়া হলেও সম্মানটি আইনগতভাবে মাচাদোর কাছেই থাকবে।

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন ভেনেজুয়েলার মাচাদো

ট্রাম্প ও নোবেল প্রসঙ্গ
ট্রাম্প এর আগে প্রকাশ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি কখনোই মাচাদোর কাছে পদক চাওয়ার কথা বলেননি এবং স্বীকার করেন যে নোবেল পুরস্কারটি মাচাদোই অর্জন করেছেন।

প্রথম সরাসরি বৈঠক
হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের সময় হওয়া এই বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টার একটু বেশি স্থায়ী হয়। এটিই ছিল ট্রাম্প ও মাচাদোর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর মাচাদো ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের একাধিক সিনেটরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন, যেখানে তিনি তুলনামূলক বেশি সমর্থন পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করতে চান ভেনেজুয়েলার মাচাদো

হোয়াইট হাউসের অবস্থান
বৈঠক চলাকালে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প এই সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন এবং আলোচনাটি ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো—এই মুহূর্তে মাচাদোর কাছে স্বল্পমেয়াদে দেশ পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন নেই বলেই ট্রাম্প মনে করেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
ডিসেম্বরে নাটকীয়ভাবে সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার পর থেকে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয়ভাবে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি একদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিরাও একই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির গণতন্ত্রে ফেরার আশা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

আমার সম্মানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন মাচাদো: ট্রাম্প

গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জানান, মাচাদো তাঁদের বলেছেন—মাদুরোর শাসনামলের মতোই এখনও ভেনেজুয়েলায় দমন-পীড়নের পরিস্থিতি বিদ্যমান। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ধীরে ধীরে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন, আর এতে ট্রাম্পের সমর্থন বড় ভূমিকা রাখছে। মারফি বলেন, তিনি নির্বাচন হওয়ার আশা রাখলেও বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান।

ট্রাম্পের অগ্রাধিকার
ট্রাম্প একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠন। তিনি রদ্রিগেজের প্রশংসাও করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহজ। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার ভেতরে রদ্রিগেজ তেল খাতে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মাচাদো অসাধারণ নারী', নোবেল পদক উপহার পেয়ে বললেন...

নির্বাচন ও রাজনৈতিক বন্দি প্রসঙ্গ
২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে মাচাদোকে নিষিদ্ধ করেছিল মাদুরো ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রিত আদালত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাচাদোর সমর্থিত প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস বিপুল ভোটে জয়ী হলেও মাদুরো ক্ষমতা ধরে রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কয়েক ডজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মুক্তির পরিমাণ সরকার অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নতুন সংজ্ঞা: যুদ্ধ নাকি কৌশলগত শক্তি?

মাচাদো বললেন, ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পদক উপহার দিয়েছেন

০৩:৩৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি নিজের নোবেল শান্তি পদক ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে হওয়া এই বৈঠককে তিনি ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করলেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। এই সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নোবেল পদক দেওয়ার পেছনের বার্তা
মাচাদো সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার পক্ষে ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই পদক দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প আদৌ সেই পদক গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নরওয়ের নোবেল ইনস্টিটিউট আগেই জানিয়েছে—নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগ বা বাতিল করা যায় না। অর্থাৎ পদক দেওয়া হলেও সম্মানটি আইনগতভাবে মাচাদোর কাছেই থাকবে।

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন ভেনেজুয়েলার মাচাদো

ট্রাম্প ও নোবেল প্রসঙ্গ
ট্রাম্প এর আগে প্রকাশ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি কখনোই মাচাদোর কাছে পদক চাওয়ার কথা বলেননি এবং স্বীকার করেন যে নোবেল পুরস্কারটি মাচাদোই অর্জন করেছেন।

প্রথম সরাসরি বৈঠক
হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের সময় হওয়া এই বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টার একটু বেশি স্থায়ী হয়। এটিই ছিল ট্রাম্প ও মাচাদোর প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর মাচাদো ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের একাধিক সিনেটরের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন, যেখানে তিনি তুলনামূলক বেশি সমর্থন পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করতে চান ভেনেজুয়েলার মাচাদো

হোয়াইট হাউসের অবস্থান
বৈঠক চলাকালে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ট্রাম্প এই সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন এবং আলোচনাটি ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো—এই মুহূর্তে মাচাদোর কাছে স্বল্পমেয়াদে দেশ পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন নেই বলেই ট্রাম্প মনে করেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
ডিসেম্বরে নাটকীয়ভাবে সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার পর থেকে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয়ভাবে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি একদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিরাও একই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির গণতন্ত্রে ফেরার আশা জোরালো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা ও প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

আমার সম্মানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন মাচাদো: ট্রাম্প

গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি জানান, মাচাদো তাঁদের বলেছেন—মাদুরোর শাসনামলের মতোই এখনও ভেনেজুয়েলায় দমন-পীড়নের পরিস্থিতি বিদ্যমান। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ধীরে ধীরে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন, আর এতে ট্রাম্পের সমর্থন বড় ভূমিকা রাখছে। মারফি বলেন, তিনি নির্বাচন হওয়ার আশা রাখলেও বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান।

ট্রাম্পের অগ্রাধিকার
ট্রাম্প একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠন। তিনি রদ্রিগেজের প্রশংসাও করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহজ। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার ভেতরে রদ্রিগেজ তেল খাতে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মাচাদো অসাধারণ নারী', নোবেল পদক উপহার পেয়ে বললেন...

নির্বাচন ও রাজনৈতিক বন্দি প্রসঙ্গ
২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে মাচাদোকে নিষিদ্ধ করেছিল মাদুরো ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রিত আদালত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাচাদোর সমর্থিত প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস বিপুল ভোটে জয়ী হলেও মাদুরো ক্ষমতা ধরে রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার কয়েক ডজন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই মুক্তির পরিমাণ সরকার অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছে।