ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র লেভিয়াথান সম্প্রসারণে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেভরন সহ অংশীদার সংস্থাগুলো। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি মিসর ও জর্ডানে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।
লেভিয়াথান প্রকল্পের গুরুত্ব
ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলের এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইসরায়েলের জ্বালানি ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি। এখান থেকে রপ্তানিকৃত গ্যাস মিসরের তরলীকৃত গ্যাস কারখানায় ব্যবহৃত হয়, যা পরে ইউরোপে পাঠানো হয়। সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মিশর-ইসরাইল গ্যাস চুক্তি কার্যকর
এই সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে মিসর ও ইসরায়েলের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলো। এই চুক্তি অনুযায়ী লেভিয়াথান ক্ষেত্র থেকে মিসরে প্রায় পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস সরবরাহ করা হবে। মিশরের নিজস্ব উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটি ইসরায়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বিনিয়োগ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ আঞ্চলিক রাজনীতির জটিলতার মধ্যেও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
উৎপাদন বাড়বে উল্লেখযোগ্য হারে
সম্প্রসারণ শেষে লেভিয়াথান থেকে বছরে প্রায় একুশ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। এর ফলে ইসরায়েলের মোট গ্যাস উৎপাদন এক চতুর্থাংশেরও বেশি বাড়বে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই দশমিক তিন ছয় বিলিয়ন ডলার এবং এটি দুই হাজার উনত্রিশ সালে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা।
অংশীদার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই গ্যাসক্ষেত্রে শেভরন প্রধান পরিচালনাকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে, সঙ্গে রয়েছে নিউমেড এনার্জি ও রেশিও এনার্জিস। লেভিয়াথান ক্ষেত্রের মজুত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ছয়শ পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ঘনমিটার বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলে বড় ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















