কোপেনহেগেনে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের কংগ্রেস সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের আশ্বস্ত করতেই এই সফর, যেখানে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে—গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বক্তব্য সত্ত্বেও কংগ্রেস ন্যাটো মিত্রদের পাশে আছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিনেটর ক্রিস কুনস। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনের। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এই সময়ে মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব নয়, বরং আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজন—এই বার্তাই তুলে ধরছেন কুনস।

গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কারণে দ্বীপটি দখলের বিষয়েও তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এই অবস্থান ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডেনমার্কের অনুরোধে ইতিমধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ প্রতীকী সামরিক উপস্থিতি পাঠিয়েছে।
ন্যাটো ও মিত্র সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিন শাহিন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বক্তব্য ন্যাটোর ভিত নড়বড়ে করছে এবং এতে লাভবান হতে পারে রাশিয়া ও চীন। তাঁর মতে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে প্রকৃত উদ্বেগ রয়েছে, তবে তিনি আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত যুক্তিবোধ জয়ী হবে। কংগ্রেসের দুই দলেই ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সম্পর্কের প্রতি দৃঢ় সমর্থন আছে বলে তিনি মনে করেন।
এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস ও লিসা মারকাউস্কিও, যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ডেমোক্র্যাট। সফরের প্রতীকী দিক হিসেবে কোপেনহেগেনের সংসদ ভবন ক্রিশ্চিয়ানসবর্গে উত্তোলন করা হয়েছে গ্রীনল্যান্ডের পতাকা।

হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর কংগ্রেসের সফর
এই সফরটি এসেছে হোয়াইট হাউসে সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর। সেখানে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে ডেনিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাতে তারা সক্ষম হননি।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতায় প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের পূর্ণ সম্মানের ভিত্তিতে।
কংগ্রেসে বাড়ছে বিরোধিতা
গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণা প্রথম উঠে আসে দুই হাজার উনিশ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। এবার বিষয়টি আবার সামনে আসায় ওয়াশিংটনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতারা এমন আইন প্রণয়নের কথা বলছেন, যাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করা যায়। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















