০১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নিষিদ্ধ পেপটাইডের মোহ: স্বাস্থ্য নাকি ঝুঁকির খেলা? শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নভেম্বর পর্যন্ত তেল-গ্যাসের উচ্চ দাম থাকবে, হরমুজ অবরোধে বিশ্ববাজারে ৫০% বৃদ্ধি ঈদুল আজহার আগে জ্বালানি সংকটে নৌপথ অচল, পালা করে চলছে লঞ্চ-জাহাজ চট্টগ্রামে গাড়ি ৩০% কম, ভাড়া বেড়েছে ২০-৪০%—জ্বালানি সংকটে পরিবহন বিপর্যয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় দিল্লিতে জ্বালানি সংকট, ঘরে ফেরার চিন্তায় লাখো অভিবাসী শ্রমিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন বিতর্ক: ‘বুলি’ অ্যালবামে নিজেকে খুঁজছেন ইয়ে মানবতা না যন্ত্র—নিউ মিউজিয়ামের নতুন প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের অস্বস্তিকর আয়না

গো খেলায় ঐতিহ্য থাকলেও ঐক্য নেই, পূর্ব এশিয়ার তিন শক্তির দ্বন্দ্বে সংকটে প্রাচীন বোর্ড খেলা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে উপহার দেন গো খেলার পাথর। কয়েক দিনের ব্যবধানে সিউলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একই রকম বার্তা দিয়ে দেওয়া হয় টরেয়া কাঠে খোদাই করা একটি গো বোর্ড। তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন মিল থাকা উপহারই ইঙ্গিত দেয়, রাজনৈতিক মতবিরোধ যতই তীব্র হোক, গো খেলাটি জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। কিন্তু বাস্তবতায় এই ঐতিহ্যই এখন বিভক্তির প্রতীক হয়ে উঠছে।

গো খেলার জন্ম ও প্রভাব
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চীনে জন্ম নেওয়া গো খেলা আধুনিক রূপ পায় জাপানে। ইদো যুগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একাডেমি, র‌্যাংকিং ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এটি পেশাদার খেলায় রূপ নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ছিল গো জগতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ বিনিময় শুরু হয়। টোকিওর নিহোন কি ইন ভবনে এখনো সেই সময়ের ছবি ঝুলে আছে, যেখানে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার স্মৃতি স্পষ্ট।

প্রতিযোগিতা থেকে জাতীয়তাবাদ
আশির দশক থেকে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা জাপানি চ্যাম্পিয়নদের হারাতে শুরু করেন। এতে দুই দেশে গো খেলায় নতুন জাগরণ আসে, সঙ্গে আসে অর্থ ও খ্যাতি। তবে এই সাফল্যই ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদের রঙ চড়ায় গো খেলায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

সিউলের বিতর্ক ও উত্তেজনা
২০২৫ সালে সিউলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। চীনের শীর্ষ খেলোয়াড় কে জিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ম্যাচ ছেড়ে দেন। কারণ হিসেবে উঠে আসে মাঝপথে চালু হওয়া একটি নতুন নিয়ম, যেখানে ধরা পাথর নির্দিষ্ট স্থানে না রাখলে শাস্তির বিধান ছিল। চীনের অভিযোগ, এই নিয়ম বিদেশিদের বিপক্ষে সুবিধা আদায়ের কৌশল। ঘটনার পর অনলাইন বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে, চীন নিজেদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় বিদেশি খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করে।

ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
এই বিরোধগুলো অনেক এশীয় গো অনুরাগীকে হতাশ করছে। দর্শক কমছে, বয়স বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকছে দাবা, শোগি কিংবা কম্পিউটার গেমের দিকে। আর্থিক চাপে টোকিওতে নিহোন কি ইন তাদের সদর দপ্তর বিক্রির কথাও ভাবছে। তিন দেশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে গো খেলাকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ঐক্যের অভাবেই সংকট
আন্তর্জাতিক গো গবেষণা সংস্থার মতে, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি অভিন্ন নিয়মপুস্তকেও একমত হতে পারেনি। অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির আশায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও নিয়ম নির্ধারণে গ্রহণ করা হয়েছে আমেরিকান ধারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে অহংকার ও জাতীয় গর্ব। অথচ প্রাচীন এক স্বর্ণসূত্রে গো খেলাই শেখায়, দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে সংঘাত এড়িয়ে শান্তির পথ খুঁজতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষিদ্ধ পেপটাইডের মোহ: স্বাস্থ্য নাকি ঝুঁকির খেলা?

গো খেলায় ঐতিহ্য থাকলেও ঐক্য নেই, পূর্ব এশিয়ার তিন শক্তির দ্বন্দ্বে সংকটে প্রাচীন বোর্ড খেলা

১০:০০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে উপহার দেন গো খেলার পাথর। কয়েক দিনের ব্যবধানে সিউলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একই রকম বার্তা দিয়ে দেওয়া হয় টরেয়া কাঠে খোদাই করা একটি গো বোর্ড। তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন মিল থাকা উপহারই ইঙ্গিত দেয়, রাজনৈতিক মতবিরোধ যতই তীব্র হোক, গো খেলাটি জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। কিন্তু বাস্তবতায় এই ঐতিহ্যই এখন বিভক্তির প্রতীক হয়ে উঠছে।

গো খেলার জন্ম ও প্রভাব
প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চীনে জন্ম নেওয়া গো খেলা আধুনিক রূপ পায় জাপানে। ইদো যুগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একাডেমি, র‌্যাংকিং ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এটি পেশাদার খেলায় রূপ নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান ছিল গো জগতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ বিনিময় শুরু হয়। টোকিওর নিহোন কি ইন ভবনে এখনো সেই সময়ের ছবি ঝুলে আছে, যেখানে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার স্মৃতি স্পষ্ট।

প্রতিযোগিতা থেকে জাতীয়তাবাদ
আশির দশক থেকে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা জাপানি চ্যাম্পিয়নদের হারাতে শুরু করেন। এতে দুই দেশে গো খেলায় নতুন জাগরণ আসে, সঙ্গে আসে অর্থ ও খ্যাতি। তবে এই সাফল্যই ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদের রঙ চড়ায় গো খেলায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক টানাপোড়েন সরাসরি প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

সিউলের বিতর্ক ও উত্তেজনা
২০২৫ সালে সিউলে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। চীনের শীর্ষ খেলোয়াড় কে জিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ম্যাচ ছেড়ে দেন। কারণ হিসেবে উঠে আসে মাঝপথে চালু হওয়া একটি নতুন নিয়ম, যেখানে ধরা পাথর নির্দিষ্ট স্থানে না রাখলে শাস্তির বিধান ছিল। চীনের অভিযোগ, এই নিয়ম বিদেশিদের বিপক্ষে সুবিধা আদায়ের কৌশল। ঘটনার পর অনলাইন বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে, চীন নিজেদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় বিদেশি খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করে।

ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
এই বিরোধগুলো অনেক এশীয় গো অনুরাগীকে হতাশ করছে। দর্শক কমছে, বয়স বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকছে দাবা, শোগি কিংবা কম্পিউটার গেমের দিকে। আর্থিক চাপে টোকিওতে নিহোন কি ইন তাদের সদর দপ্তর বিক্রির কথাও ভাবছে। তিন দেশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে গো খেলাকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ঐক্যের অভাবেই সংকট
আন্তর্জাতিক গো গবেষণা সংস্থার মতে, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া একটি অভিন্ন নিয়মপুস্তকেও একমত হতে পারেনি। অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির আশায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও নিয়ম নির্ধারণে গ্রহণ করা হয়েছে আমেরিকান ধারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করছে অহংকার ও জাতীয় গর্ব। অথচ প্রাচীন এক স্বর্ণসূত্রে গো খেলাই শেখায়, দুর্বলতা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে সংঘাত এড়িয়ে শান্তির পথ খুঁজতে।