বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়, বাড়ে নানা জটিলতার ঝুঁকি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে আশাব্যঞ্জক তথ্য। নিয়মিত টিকা নেওয়া বয়স্ক মানুষেরা শুধু নির্দিষ্ট সংক্রমণ থেকেই সুরক্ষিত নন, তাঁদের হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা এমনকি স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
টিকার আসল সুরক্ষা ও বাড়তি লাভ
বয়স্কদের জন্য ফ্লু টিকা নেওয়ার মূল কারণ হলো সংক্রমণ হলে রোগের তীব্রতা কমানো। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ফ্লুর টিকা নেন তাঁদের হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। একই সঙ্গে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা বাড়ে।
শ্বাসতন্ত্রের আরেকটি গুরুতর ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পর প্রথম বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় সাত ভাগের পাঁচ ভাগ কমে যায় এবং দুই বছরে এই সুরক্ষা প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
হারপিস জোস্টার ও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি
হারপিস জোস্টার রোগের টিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল যন্ত্রণাদায়ক ফুসকুড়ি ও দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক ব্যথা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকা নেওয়া বয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার কোটি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হারপিস জোস্টারের টিকা নেওয়ার পর স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় এক চতুর্থাংশ কমে যায়।
শুধু তাই নয়, ফ্লু টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমার প্রমাণ মিলেছে। নিউমোকক্কাল সংক্রমণের টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আলঝেইমার ধরনের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি আরও বেশি হারে কমে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত
দীর্ঘদিনের গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, ফ্লু টিকা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসের টিকা নেওয়া বয়স্কদের হৃদয় ও ফুসফুসজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও কমেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানগত নিশ্চিততা এখনও পুরোপুরি মেলেনি, বিশেষজ্ঞদের মতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপকারিতা আরও স্পষ্ট হবে।
কেন এমন উপকারিতা দেখা যাচ্ছে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের সময় শরীরে যে প্রদাহ তৈরি হয়, সেটিই অনেক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ। এই প্রদাহ হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও রক্তনালির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এই প্রদাহজনিত ক্ষতির শৃঙ্খল ভেঙে দেয়। ফলে শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিও কমে যায়।
তবু টিকা গ্রহণে অনীহা
সব উপকারিতা সত্ত্বেও অনেক বয়স্ক মানুষ এখনও নিয়মিত টিকা নিচ্ছেন না। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবীণ এখনো মৌসুমি ফ্লু, শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস কিংবা নতুন সংক্রমণের টিকা গ্রহণ করেননি। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বার্ধক্য ও মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে টিকা এখন একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















