যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে উদ্যোক্তা এলন মাস্কের আইনি দাবিকে ঘিরে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট এর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৩৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি। মাস্কের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান দুটি তার প্রাথমিক অবদান থেকে যে অন্যায্য লাভ করেছে, সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।
মাস্কের দাবি ও অর্থনৈতিক হিসাব
ফেডারেল আদালতে দাখিল করা নথিতে মাস্ক বলেন, ওপেনএআই প্রতিষ্ঠার শুরুর সময়ে তার আর্থিক সহায়তা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সুনাম প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত বড় হতে সাহায্য করেছে। তার হিসাব অনুযায়ী, তার অবদানের ফলে ওপেনএআই প্রায় ৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ১০৯ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লাভ করেছে। একই সঙ্গে মাইক্রোসফট লাভ করেছে আনুমানিক ১৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ২৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

আইনজীবীর বক্তব্য
এলন মাস্কের প্রধান আইনজীবী স্টিভেন মলো বলেন, মাস্ক না থাকলে ওপেনএআইয়ের অস্তিত্বই থাকত না। তিনি শুরুতে অধিকাংশ তহবিল জুগিয়েছেন, ব্যবসা বড় করার কৌশল শিখিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছেন। একজন খ্যাতনামা আর্থিক বিশেষজ্ঞ সেই অবদানের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করেছেন।
ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের পাল্টা অবস্থান
ওপেনএআই মাস্কের দাবিকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছে এবং এটিকে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানির অংশ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে আদালতে দাখিল করা পৃথক নথিতে দুটি প্রতিষ্ঠানই মাস্কের ক্ষতিপূরণ দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং তার আর্থিক বিশ্লেষণকে ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিরোধের পেছনের কারণ
মাস্ক ২০১৮ সালে ওপেনএআই ছেড়ে যান। তার অভিযোগ, ওপেনএআই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে লাভজনক কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠার সময়কার নীতির পরিপন্থী। বর্তমানে মাস্ক নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য শাস্তি
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের এক বিচারক চলতি মাসে রায় দিয়েছেন, এ মামলার বিচার জুরি বোর্ডের মাধ্যমে হবে এবং এপ্রিল থেকে বিচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাস্ক শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, প্রয়োজনে শাস্তিমূলক জরিমানা এবং অন্যান্য আইনি নির্দেশনার আবেদনও করতে পারেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















