০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

ইউরোপ–আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে পাল্টা জবাবের পথে ইইউ

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ইউরোপ জুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, একদিকে ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত বদলাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কড়া পাল্টা ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকের পথে হাঁটছে ইইউ।

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে শুল্ক হুমকি
শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড সহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসানো হবে। শর্ত একটাই, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার সুযোগ দিতে হবে। এই বক্তব্যকে ইউরোপের বড় দেশগুলো সরাসরি চাপ ও ব্ল্যাকমেইলের শামিল বলে আখ্যা দিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

ব্রাসেলসে জরুরি আলোচনা
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় নেতারা। আলোচনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পুরোনো প্যাকেজ আবার চালুর বিষয়। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এখনো কখনো ব্যবহার না হওয়া একটি শক্তিশালী আইনি অস্ত্র, যার মাধ্যমে সরকারি দরপত্র, বিনিয়োগ কিংবা ডিজিটাল সেবার মতো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ সীমিত করা যেতে পারে।

পাল্টা ব্যবস্থায় মতভেদ
ইইউ সূত্রগুলো বলছে, শুল্ক আরোপের বিকল্পটি তুলনামূলক বেশি সমর্থন পাচ্ছে। তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রশ্নে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এখনো একরকম নয়। তবুও সবাই একমত যে, কোনো ধরনের জবরদস্তি মেনে নেওয়া হবে না।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে অবস্থান
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইইউ ঐক্যবদ্ধ। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার কথা তুলে ধরেছেন।

The President's role - Consilium

ডাভোসে সংলাপের চেষ্টা
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আসরে এই সংকট বড় আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের চেষ্টা চলবে। ইইউ কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই তারা এগোতে চান।

বাজারে অস্থিরতা
শুল্ক হুমকির খবর ছড়াতেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরো ও ব্রিটিশ মুদ্রার দর কমেছে এবং সামনে আরও ওঠানামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

ট্রাম্প কেন 'বাণিজ্য যুদ্ধ' শুরু করলেন?

বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিত
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি গুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কাজ স্থগিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অনেক নেতার মতে, বর্তমান অবস্থায় নতুন কোনো চুক্তি অনুমোদন সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

ইউরোপ–আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকিতে পাল্টা জবাবের পথে ইইউ

০৩:০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ইউরোপ জুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, একদিকে ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত বদলাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে কড়া পাল্টা ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকের পথে হাঁটছে ইইউ।

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে শুল্ক হুমকি
শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড সহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক বসানো হবে। শর্ত একটাই, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার সুযোগ দিতে হবে। এই বক্তব্যকে ইউরোপের বড় দেশগুলো সরাসরি চাপ ও ব্ল্যাকমেইলের শামিল বলে আখ্যা দিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ট্রাম্পের

ব্রাসেলসে জরুরি আলোচনা
এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউরোপীয় নেতারা। আলোচনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পুরোনো প্যাকেজ আবার চালুর বিষয়। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এখনো কখনো ব্যবহার না হওয়া একটি শক্তিশালী আইনি অস্ত্র, যার মাধ্যমে সরকারি দরপত্র, বিনিয়োগ কিংবা ডিজিটাল সেবার মতো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ সীমিত করা যেতে পারে।

পাল্টা ব্যবস্থায় মতভেদ
ইইউ সূত্রগুলো বলছে, শুল্ক আরোপের বিকল্পটি তুলনামূলক বেশি সমর্থন পাচ্ছে। তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রশ্নে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এখনো একরকম নয়। তবুও সবাই একমত যে, কোনো ধরনের জবরদস্তি মেনে নেওয়া হবে না।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে অবস্থান
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইইউ ঐক্যবদ্ধ। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার কথা বলেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার কথা তুলে ধরেছেন।

The President's role - Consilium

ডাভোসে সংলাপের চেষ্টা
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আসরে এই সংকট বড় আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের চেষ্টা চলবে। ইইউ কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই তারা এগোতে চান।

বাজারে অস্থিরতা
শুল্ক হুমকির খবর ছড়াতেই বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইউরো ও ব্রিটিশ মুদ্রার দর কমেছে এবং সামনে আরও ওঠানামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘ হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

ট্রাম্প কেন 'বাণিজ্য যুদ্ধ' শুরু করলেন?

বাণিজ্য চুক্তি অনিশ্চিত
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি গুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে কাজ স্থগিত করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অনেক নেতার মতে, বর্তমান অবস্থায় নতুন কোনো চুক্তি অনুমোদন সম্ভব নয়।