ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে প্রায় পাঁচশ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
অর্থনৈতিক ক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ
গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। দোকানদার, শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব—সব শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নেয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল ধর্মীয় শাসনের অবসান।
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক বার্তা প্রেসিডেন্টের
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অন্যায় আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর ও ভয়াবহ। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর আঘাত মানেই পুরো জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, তেহরান কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি নিয়ে ইঙ্গিত
ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আছগর জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত কিছু কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় আইনে সর্বোচ্চ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসি কার্যকর হলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান নাকি আটশ জনের নির্ধারিত ফাঁসি স্থগিত করেছে।
আটক ও হতাহতের ভিন্ন হিসাব
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে বলা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি এবং আরও হাজার হাজার ঘটনার যাচাই চলছে। এ ছাড়া চব্বিশ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর সংখ্যা আর খুব বেশি বাড়বে না।

কুর্দি অঞ্চলে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ
দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। অতীতে এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দমন ও ইন্টারনেট বন্ধ
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ফলে গত সপ্তাহে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তায় সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট চালু হলেও পরে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের আতঙ্ক
বিক্ষোভের সহিংসতা সাধারণ মানুষের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিদেশ থেকে আসা এক চিকিৎসক জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাকে সফর সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। তিনি রাস্তায় আগুন, লুটপাট ও ছুরিকাঘাতের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















