০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও মাত্র ২০ ডলারে বিশ্বতারকাদের কনসার্ট! বাড়তি টিকিটের দামে ভক্তদের স্বস্তি ফেরাতে নতুন উদ্যোগ আগুনে দুবার পুড়ে ধ্বংস: স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক শিল্পবিদ্যালয় কি আবারও ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব? চীনের আগ্রাসন ঠেকাতে যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার তাইওয়ানের, শুরু ১০ দিনের বৃহৎ সামরিক মহড়া মিশিগানের প্রাইমারিকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল ও ইহুদিবিদ্বেষ বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় রেকর্ড আয়, তবু কমছে দর্শক: বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা দেখার অভ্যাস কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৭, দুর্বল হয়ে পড়ছে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অভিবাসন অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, আইসিইর পদক্ষেপে আপত্তি বিমান সংস্থাগুলোর শেখ হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিলো- প্রশ্ন বিএনপির মৃত্যুদণ্ড সত্ত্বেও দেশে ফেরার পরিকল্পনার ‘জুয়া’ কেন খেলছেন শেখ হাসিনা

পেন্টাগনের প্রস্তুতি, মিনেসোটায় সেনা নামানোর ইঙ্গিত ঘিরে তীব্র উদ্বেগ

মিনেসোটায় চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও তীব্র হলে সেখানে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন। প্রায় দেড় হাজার সক্রিয় সেনাকে সম্ভাব্য মোতায়েনের নির্দেশনায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সামরিক শক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

পেন্টাগনের প্রস্তুতির পেছনের প্রেক্ষাপট
সরকারি সূত্র জানায়, আলাস্কাভিত্তিক সেনা ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে সহিংসতা বাড়লে দ্রুত মিনেসোটায় পাঠানো যায়। তবে আদৌ সেনা পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। মূলত অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের বিরুদ্ধে মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা থেকেই এই প্রস্তুতির সূত্রপাত।

Pentagon readies 1,500 troops to possibly deploy to Minnesota: report

আইসিই অভিযানের পর বাড়ছে সংঘর্ষ
গত সাত জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে গাড়ির ভেতরে থাকা রেনে গুড নামের এক নারী আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে বিদ্রোহ দমন আইন প্রয়োগ করে সেনা নামানোর হুমকি দেন। তার প্রশাসন ইতোমধ্যে মিনেসোটায় তিন হাজারের বেশি অভিবাসন ও সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ফেডারেল সম্পত্তি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

ভারত-চীন-রাশিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

স্থানীয় নেতাদের আপত্তি
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে স্পষ্ট করে বলেছেন, সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে। তার মতে, শহরটি নিরাপদ এবং অতিরিক্ত ফেডারেল বাহিনী প্রয়োজন নেই। স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ করছে, বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাকে বড় করে দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অযথা হস্তক্ষেপ করছে।

সংখ্যালঘু অভিবাসী সম্প্রদায়ের আতঙ্ক
সোমালি, হমং ও মেক্সিকান অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্ট পলের একটি বাড়িতে অস্ত্রধারী এজেন্টদের অভিযানে এক হমং ব্যক্তিকে আটক করার সময় প্রতিবাদে মুখর হয় এলাকাবাসী। একইভাবে একটি মেক্সিকান রেস্তোরাঁর কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডকে সক্রিয় করেছেন। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য। তবে ফেডারেল সেনা নামানো হলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিউতার ট্র্যাজেডি: সীমান্ত ভেঙেছে শুধু মানুষ নয়, ভেঙেছে ডিজিটাল বিভ্রান্তির প্রতিরোধও

পেন্টাগনের প্রস্তুতি, মিনেসোটায় সেনা নামানোর ইঙ্গিত ঘিরে তীব্র উদ্বেগ

০২:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটায় চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও তীব্র হলে সেখানে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন। প্রায় দেড় হাজার সক্রিয় সেনাকে সম্ভাব্য মোতায়েনের নির্দেশনায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে সামরিক শক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

পেন্টাগনের প্রস্তুতির পেছনের প্রেক্ষাপট
সরকারি সূত্র জানায়, আলাস্কাভিত্তিক সেনা ইউনিটগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে, যাতে সহিংসতা বাড়লে দ্রুত মিনেসোটায় পাঠানো যায়। তবে আদৌ সেনা পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। মূলত অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের বিরুদ্ধে মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা থেকেই এই প্রস্তুতির সূত্রপাত।

Pentagon readies 1,500 troops to possibly deploy to Minnesota: report

আইসিই অভিযানের পর বাড়ছে সংঘর্ষ
গত সাত জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে গাড়ির ভেতরে থাকা রেনে গুড নামের এক নারী আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে বিদ্রোহ দমন আইন প্রয়োগ করে সেনা নামানোর হুমকি দেন। তার প্রশাসন ইতোমধ্যে মিনেসোটায় তিন হাজারের বেশি অভিবাসন ও সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ফেডারেল সম্পত্তি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

ভারত-চীন-রাশিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

স্থানীয় নেতাদের আপত্তি
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে স্পষ্ট করে বলেছেন, সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে। তার মতে, শহরটি নিরাপদ এবং অতিরিক্ত ফেডারেল বাহিনী প্রয়োজন নেই। স্থানীয় নেতৃত্ব অভিযোগ করছে, বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনাকে বড় করে দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অযথা হস্তক্ষেপ করছে।

সংখ্যালঘু অভিবাসী সম্প্রদায়ের আতঙ্ক
সোমালি, হমং ও মেক্সিকান অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্ট পলের একটি বাড়িতে অস্ত্রধারী এজেন্টদের অভিযানে এক হমং ব্যক্তিকে আটক করার সময় প্রতিবাদে মুখর হয় এলাকাবাসী। একইভাবে একটি মেক্সিকান রেস্তোরাঁর কর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ রাজ্যের ন্যাশনাল গার্ডকে সক্রিয় করেছেন। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করাই তাদের লক্ষ্য। তবে ফেডারেল সেনা নামানো হলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।