০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল ট্রাম্পের কণ্ঠে খামেনির বিদায়ের ডাক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র সিরিয়ার বৃহত্তম তেলক্ষেত্র ছাড়ল কুর্দি বাহিনী, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে সরকার নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারায় দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ালেন যাত্রীরা শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যা, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, মৃত্যু ছাড়াল ত্রিশ ইরানে বিক্ষোভ দমন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি খামেনির, ‘ঘরোয়া অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না’ গাজা শাসনে নতুন ধাপ, বোর্ডে রিম আল হাশিমি ও গারগাশ একাডেমির প্রধান

মিনেসোটায় আইসিইকে ঘিরে অহিংস আন্দোলন পুরোনো নাগরিক অধিকার কৌশল ফিরিয়ে এনেছে

[শিস, নজরদারি ও নৈতিক সচেতনতা]
মিনিয়াপোলিসে এক আইসিই গুলির ঘটনার পর মিনেসোটার কর্মীরা এমন প্রতিবাদ কৌশল নিয়েছে, যা ১৯৬০‑এর দশকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে মনে করিয়ে দেয়। ‘র‍্যাপিড রেসপন্স কালেকটিভ’ ও অন্যান্য নেটওয়ার্কের স্বেচ্ছাসেবীরা ফেডারেল এজেন্টদের অনুসরণ করেন; তারা বাঁশি বাজিয়ে ও সেলফোনে লাইভস্ট্রিম করে, যাতে প্রতিবেশীরা জানেন কে আটক করা হচ্ছে এবং আটককারীদের আচরণ কেমন। উদ্যোক্তারা বলেন, তারা আটক ঠেকানোর চেষ্টা করেন না; বরং শান্ত থাকা ও নথিভুক্ত করার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে চান। এই কৌশলটি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বার্মিংহাম প্রচারণার মতো—যেখানে সংঘাত সৃষ্টি করে বর্ণবাদী পুলিশি সহিংসতা বিশ্বকে দেখানো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবীরা ফোন চেইন ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং ব্যবহার করে মিনিটের মধ্যে লোক জড়ো করেন, আর কেউ কেউ বডি ক্যামেরায় সব ঘটনা ধারণ করেন। নতুন জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ আমেরিকান এখন মনে করেন আইসিইর তৎপরতা শহরকে কম নিরাপদ করে, যা গুলির ঘটনার আগে ৪৫ শতাংশ ছিল; ৫২ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি খুব বেশি দূর এগিয়েছে।

এই আন্দোলন মিনিয়াপোলিস ছাড়িয়ে সেন্ট পল, ডুলুথ ও ডেনভারেও ছড়াচ্ছে। শত শত মানুষ ফেডারেল ভবন ও বেসরকারি কারাগারের বাইরে সমাবেশে যোগ দিয়েছে, আর #EyesOnICE হ্যাশট্যাগ লক্ষাধিক বার ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পুলিশ ইউনিয়ন ও রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা বলছেন, কর্মকর্তাদের অনুসরণ করা বিপজ্জনক এবং আইসিইর অপারেশন নষ্ট করতে পারে; আইসিইর দাবি, তারা শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেন এবং নজরদারির কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। আয়োজকেরা জবাব দেন যে প্রকাশ্যে উপস্থিতি সকল পক্ষের জন্য সহিংসতা কমায় এবং তারা সব সময় শান্তিপূর্ণ থাকেন। স্থানীয় মসজিদ ও চার্চগুলো এই উদ্যোগে আইনি পরামর্শ ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে; অনেক ধর্মীয় নেতা তাদের সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করাচ্ছেন।

[নৈতিক দ্বন্দ্ব ও আন্দোলন গড়ে তোলা]
আয়োজকরা মনে করেন, এই accompany কৌশল অহিংস প্রতিরোধের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। তারা অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেন কিভাবে চোখের যোগাযোগ বজায় রাখতে ও উত্তেজনা এড়াতে হয় এবং প্রতি অভিযান শেষে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করেন। লক্ষ্য হলো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণ জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং স্থানীয় সরকারকে ফেডারেল তথ্য ভাগাভাগি সীমিত করতে প্ররোচিত করা। কিছু কাউন্টি ইতিমধ্যে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়েছে, যা আন্দোলনের তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। সমালোচকেরা উদ্বেগ জানান যে, ক্রমাগত নজরদারি কর্মকর্তাদের আরও গোপনে কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে বা শিশুদের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠকরা বলেন, স্বচ্ছতা ও কমিউনিটি উপস্থিতি উভয় পক্ষকে সুরক্ষিত রাখে এবং তারা উত্তেজনা বাড়লে সরে যান। মিনেসোটা ছাড়াও কলোরাডো, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কে অনুরূপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনলেও মূল উদ্দেশ্য একই—অভিবাসন নীতির মানবিক মূল্য প্রকাশ করা। এটি পুরো দেশে অহিংস নাগরিক অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদি নীতি পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল

মিনেসোটায় আইসিইকে ঘিরে অহিংস আন্দোলন পুরোনো নাগরিক অধিকার কৌশল ফিরিয়ে এনেছে

০৬:৫২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

[শিস, নজরদারি ও নৈতিক সচেতনতা]
মিনিয়াপোলিসে এক আইসিই গুলির ঘটনার পর মিনেসোটার কর্মীরা এমন প্রতিবাদ কৌশল নিয়েছে, যা ১৯৬০‑এর দশকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে মনে করিয়ে দেয়। ‘র‍্যাপিড রেসপন্স কালেকটিভ’ ও অন্যান্য নেটওয়ার্কের স্বেচ্ছাসেবীরা ফেডারেল এজেন্টদের অনুসরণ করেন; তারা বাঁশি বাজিয়ে ও সেলফোনে লাইভস্ট্রিম করে, যাতে প্রতিবেশীরা জানেন কে আটক করা হচ্ছে এবং আটককারীদের আচরণ কেমন। উদ্যোক্তারা বলেন, তারা আটক ঠেকানোর চেষ্টা করেন না; বরং শান্ত থাকা ও নথিভুক্ত করার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে চান। এই কৌশলটি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বার্মিংহাম প্রচারণার মতো—যেখানে সংঘাত সৃষ্টি করে বর্ণবাদী পুলিশি সহিংসতা বিশ্বকে দেখানো হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবীরা ফোন চেইন ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং ব্যবহার করে মিনিটের মধ্যে লোক জড়ো করেন, আর কেউ কেউ বডি ক্যামেরায় সব ঘটনা ধারণ করেন। নতুন জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ আমেরিকান এখন মনে করেন আইসিইর তৎপরতা শহরকে কম নিরাপদ করে, যা গুলির ঘটনার আগে ৪৫ শতাংশ ছিল; ৫২ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি খুব বেশি দূর এগিয়েছে।

এই আন্দোলন মিনিয়াপোলিস ছাড়িয়ে সেন্ট পল, ডুলুথ ও ডেনভারেও ছড়াচ্ছে। শত শত মানুষ ফেডারেল ভবন ও বেসরকারি কারাগারের বাইরে সমাবেশে যোগ দিয়েছে, আর #EyesOnICE হ্যাশট্যাগ লক্ষাধিক বার ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পুলিশ ইউনিয়ন ও রক্ষণশীল রাজনীতিবিদরা বলছেন, কর্মকর্তাদের অনুসরণ করা বিপজ্জনক এবং আইসিইর অপারেশন নষ্ট করতে পারে; আইসিইর দাবি, তারা শুধু চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেন এবং নজরদারির কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। আয়োজকেরা জবাব দেন যে প্রকাশ্যে উপস্থিতি সকল পক্ষের জন্য সহিংসতা কমায় এবং তারা সব সময় শান্তিপূর্ণ থাকেন। স্থানীয় মসজিদ ও চার্চগুলো এই উদ্যোগে আইনি পরামর্শ ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে; অনেক ধর্মীয় নেতা তাদের সম্প্রদায়কে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করাচ্ছেন।

[নৈতিক দ্বন্দ্ব ও আন্দোলন গড়ে তোলা]
আয়োজকরা মনে করেন, এই accompany কৌশল অহিংস প্রতিরোধের দীর্ঘ ঐতিহ্যের অংশ। তারা অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেন কিভাবে চোখের যোগাযোগ বজায় রাখতে ও উত্তেজনা এড়াতে হয় এবং প্রতি অভিযান শেষে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান করেন। লক্ষ্য হলো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণ জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং স্থানীয় সরকারকে ফেডারেল তথ্য ভাগাভাগি সীমিত করতে প্ররোচিত করা। কিছু কাউন্টি ইতিমধ্যে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা কমিয়েছে, যা আন্দোলনের তাৎক্ষণিক সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। সমালোচকেরা উদ্বেগ জানান যে, ক্রমাগত নজরদারি কর্মকর্তাদের আরও গোপনে কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে বা শিশুদের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠকরা বলেন, স্বচ্ছতা ও কমিউনিটি উপস্থিতি উভয় পক্ষকে সুরক্ষিত রাখে এবং তারা উত্তেজনা বাড়লে সরে যান। মিনেসোটা ছাড়াও কলোরাডো, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কে অনুরূপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনলেও মূল উদ্দেশ্য একই—অভিবাসন নীতির মানবিক মূল্য প্রকাশ করা। এটি পুরো দেশে অহিংস নাগরিক অংশগ্রহণের নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদি নীতি পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত।