নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবিকাঠি এখন জনগণের হাতেই—এমন বার্তা দিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই রাষ্ট্রকে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তোলার পথ খুলে দেবে।
গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান
সোমবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস ভোটারদের গণভোটে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের দরজা খুলবে। সবাই যেন নিজের ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পরিচিতদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসেন এবং দেশ পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন—এ আহ্বানও জানান তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থান ও সংস্কারের সুযোগ
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ জাতির ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদ ও জনগণের সম্মতি
আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের লক্ষ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জনগণকে গণভোটে অংশ নিয়ে সনদের পক্ষে সম্মতি জানানোর আহ্বান জানান।
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে
প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর ভাষায়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে।
‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ কী
অধ্যাপক ইউনূস ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ হলো সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এতে সংবিধান ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না; গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো সংশোধনের জন্য জনগণের সম্মতি লাগবে।
সংসদ ও ক্ষমতার ভারসাম্য
তিনি জানান, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংসদে বিরোধী দল থেকে উপস্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের নির্বাচনের বিধান কার্যকর হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
নারী প্রতিনিধিত্ব ও উচ্চকক্ষ
এই প্রস্তাবে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মৌলিক অধিকার ও ভাষার স্বীকৃতি
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানুষের মৌলিক অধিকারকে আরও সুরক্ষিত করবে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা সংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে, একই সঙ্গে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার স্বীকৃতিও নিশ্চিত করা হবে।
ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহি
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের ক্ষমা করতে পারবেন না এবং সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না। এসবসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উপসংহার
সব দিক বিবেচনায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াই একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ। তিনি জনগণকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















