বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরা দেশীয়ভাবে শনাক্ত করা হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের একটি টিকা উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকদের আশা, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই টিকা দেশের হাঁস পালন খাতে রোগজনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে।
বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেছেন গবেষণা দলের প্রধান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
তিনি জানান, হাঁসের প্লেগ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত হাঁসের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে রোগটি খামারিদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দেশীয় ভাইরাস ব্যবহার করে টিকা উদ্ভাবন

অধ্যাপক বাহানুর রহমান বলেন, গবেষণার শুরুতে তাদের লক্ষ্য ছিল দুর্বলকৃত (অ্যাটেনুয়েটেড) টিকা তৈরি করা। তবে পরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) অনুরোধে গবেষণা দল নিষ্ক্রিয় (ইনঅ্যাকটিভেটেড) টিকা এবং ডিএনএভিত্তিক টিকা নিয়েও কাজ শুরু করে।
তিনি জানান, ইনঅ্যাকটিভেটেড টিকাটি প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তবে ডিএনএভিত্তিক টিকা এবং মুখে খাওয়ানো যায় এমন টিকার প্রার্থী সংস্করণ আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা শেষে কৃষকের হাতে
গবেষণা দলের প্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্ভাবিত টিকাটি বর্তমানে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এটি খামারিদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই টিকা হাঁসের প্লেগের বিরুদ্ধে ৯০ শতাংশের বেশি সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি দেশের হাঁস পালন খাতের উৎপাদন ও সুরক্ষা জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

টিকাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের (সিএএসআর) সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম বলেন, হাঁস একবার ভাইরাসে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সাধারণত খুব বেশি কার্যকর হয় না। তাই রোগ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, দেশীয়ভাবে শনাক্ত করা হাঁসের প্লেগ ভাইরাস ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যের টিকা উদ্ভাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিধি বিভাগের দীর্ঘদিনের টিকা গবেষণার ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা
অধ্যাপক শামসুল আলমের মতে, সময়ের সঙ্গে ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসে। সেই পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এই টিকার কার্যকারিতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা অব্যাহত থাকলে হাঁসের প্লেগ প্রতিরোধে আরও কার্যকর সমাধান তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















