ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে আয়ের ওপর নতুন কর আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা পরিকল্পনায় সামাজিক সেবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার আগে এক ভাষণে বার্নহাম সামাজিক সেবা সংস্কারের পক্ষে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেবেন। তিনি এই সংস্কারকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক সেবার অর্থায়নে নতুন ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক সেবা খাতে টেকসই অর্থায়নের লক্ষ্যে আয়করের সঙ্গে যুক্ত নতুন একটি কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন।
সামাজিক সেবার বর্তমান কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকট ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সরকার নতুন অর্থায়ন পদ্ধতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

বেসরকারি নার্সিং হোম ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
প্রস্তাবিত সংস্কারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেসরকারিভাবে পরিচালিত নার্সিং হোম চেইনগুলোর ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক সেবার নতুন কাঠামোতে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
এটি ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে বা এর চূড়ান্ত রূপ কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বিরোধী দলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ
সামাজিক সেবা সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বিরোধী দলের নেতাদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভির সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন।
তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক ওই বৈঠকে অংশ নেবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সামাজিক সেবা সংস্কারের জন্য “নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য” নিয়োজিত করার অঙ্গীকার করবেন। সরকার মনে করছে, ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন।
এই প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের কাঠামো নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়করে নতুন করের মাধ্যমে সামাজিক সেবা সংস্কারের অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের উদ্যোগ ইংল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















