বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১৮৯টি বাঘ রয়েছে। সুন্দরবন ও দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় থাকা এই সংখ্যাকে প্রজাতিটির দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বাঘ আরও বড় অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
বুধবার বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় আয়োজিত র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাঘ সংরক্ষণে বাড়াতে হবে সচেতনতা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাঘ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। এ প্রাণীকে রক্ষা করতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণবিষয়ক সচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জানান, প্রায় একশ বছর আগে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে প্রায় পাঁচ হাজারে নেমে এসেছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে প্রজাতিটি গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে।
বাংলাদেশে কোথায় কত বাঘ
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে রয়েছে ১২৪টি বাঘ। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় রয়েছে প্রায় ১৫টি এবং দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানায় রয়েছে মোট প্রায় ৫০টি বাঘ। সব মিলিয়ে দেশে বাঘের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৯।
তিনি বলেন, বাঘ বাংলাদেশের একটি জাতীয় সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে পারে এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

বাঘ গণনা নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
বাঘ গণনার জন্য বরাদ্দ বাজেট এবং এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাঘ গণনার বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি বন বিভাগের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বন বিভাগ তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে বাঘ গণনার কাজ পরিচালনা করে থাকে।
বিশ্ব বাঘ দিবসের কর্মসূচি
বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি স্যুভেনির শপের উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















