পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) সোয়াত জেলার মাট্টা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। একই অভিযানে পাকিস্তানের এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার পরিচালিত এ অভিযানে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অংশ নেয়। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় বাহিনী মাট্টার রশিদ সার এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়। তবে পুরো এলাকা থেকে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
জঙ্গিদের আস্তানায় অভিযান
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, অভিযানের সময় জঙ্গিরা একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে অবস্থানকারী বাসিন্দাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে চার জঙ্গিকে হত্যা করে।

তবে সংঘর্ষের সময় এলিট ফোর্সের কনস্টেবল গুলফাম খান গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। দায়িত্ব পালনকালে তার এই আত্মত্যাগকে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে।
শহীদ সদস্যকে রাষ্ট্রীয় সম্মান
নিহত কনস্টেবল গুলফাম খানের জানাজা সোয়াতের পুলিশ লাইনসে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মালাকান্দ বিভাগের কমিশনার, রিজিওনাল পুলিশ অফিসার (আরপিও), সোয়াত জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও), সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল শহীদ সদস্যকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। মালাকান্দের আরপিও বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যরাই জাতির প্রকৃত বীর। তাদের আত্মত্যাগ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদ একাধিকবার আফগান তালেবান প্রশাসনের প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, কাবুল এ বিষয়ে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার জবাবে দেশটি ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ শুরু করে।
সোয়াতে সর্বশেষ এই অভিযানকে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য হলো এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















