০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি সোয়াতে যৌথ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত, এলিট ফোর্সের এক কনস্টেবল নিহত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মৃত্যুর পরও স্বস্তি: কয়লা ব্লক মামলায় সম্পূর্ণ অব্যাহতি পেলেন ড. মনমোহন সিং রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে লোকসভায় তুমুল হট্টগোল, অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার দাবি বাধ্যতামূলক ভোট: গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, নাকি আরও দুর্বল? হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রশ্নে আবার আলোচনায় আইসিটি: ন্যায়বিচারের মানদণ্ড নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের কুমামোতো ভূমিকম্পে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা, বন্ধ কারখানা-যোগাযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট গত ১৫ বছরে জাপানের বড় বড় ভূমিকম্প

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী রেড সি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যদিও এই পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

২০ জুলাই ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করে এবং উপসাগরের বাইরে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার পরিধি বাড়ায়।

বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে পরিকল্পনা

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা রেড সির দক্ষিণ অংশকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজের ওপর ফি আরোপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হুথিদের গণমাধ্যম দপ্তর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফরের সময় হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে ফি আদায়ের প্রথাকে স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

চীনা জাহাজের জন্য সম্ভাব্য ছাড়

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই ব্যবস্থায় চীনা জাহাজগুলোকে ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে এবং হুথিরাও এতে সম্মত। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, রেড সির দক্ষিণ অংশে হামলা এড়িয়ে চীনা তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হুথিদের সঙ্গে চীনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন।

ইরানি পরামর্শকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

একজন আরব কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তেহরান থেকে ফেরার সময় হুথি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি উপদেষ্টারাও ইয়েমেনে যান। তারা বাব আল-মান্দেবে সম্ভাব্য ফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা রয়টার্সকে বলেন, হুথিরা রেড সির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে এবং সুযোগ পেলে জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বাণিজ্য ঝুঁকি

দুই পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, এমন উদ্যোগ উপসাগরীয় দেশ ও ইউরোপের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি বদলানোর রাজনৈতিক আগ্রহও সীমিত।

একই সময়ে, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ প্রণালির যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ধারণাও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে উপসাগরীয় বাণিজ্য সংকট নিরসনের সম্ভাবনাও আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সৌদি জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেবে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ রুট হারাবে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজা যুদ্ধের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিদের জাহাজে হামলার কারণে রেড সির বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত বছরের গাজা যুদ্ধবিরতির পর হামলা কমলেও সম্প্রতি সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দায় হুথিরা স্বীকার করেছে।

২০২৪ সালের জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, নিরাপদে চলাচলের বিনিময়ে কিছু শিপিং এজেন্সির কাছ থেকে হুথিরা অর্থ আদায় করেছিল। যদিও ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য মাসিক আদায়ের পরিমাণ ১৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হলেও সেটিও নিশ্চিত নয়।

বাব আল-মান্দেব হয়ে এশিয়ায় পৌঁছাতে গড়ে ১৬ দিন লাগে। কিন্তু জাহাজকে যদি সুয়েজ খাল এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে যেতে হয়, তাহলে একই যাত্রায় প্রায় ৫০ দিন সময় লাগে।

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে হুথিদের আলোচনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

০৪:২৮:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী রেড সি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই এমন উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যদিও এই পরিকল্পনা কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

২০ জুলাই ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করে এবং উপসাগরের বাইরে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবাহী ট্যাংকারের ওপর হামলার পরিধি বাড়ায়।

বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে পরিকল্পনা

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা রেড সির দক্ষিণ অংশকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজের ওপর ফি আরোপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হুথিদের গণমাধ্যম দপ্তর কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, জুলাই মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান সফরের সময় হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে ফি আদায়ের প্রথাকে স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

চীনা জাহাজের জন্য সম্ভাব্য ছাড়

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই ব্যবস্থায় চীনা জাহাজগুলোকে ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে এবং হুথিরাও এতে সম্মত। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, রেড সির দক্ষিণ অংশে হামলা এড়িয়ে চীনা তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হুথিদের সঙ্গে চীনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরবের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন।

ইরানি পরামর্শকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

একজন আরব কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তেহরান থেকে ফেরার সময় হুথি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি উপদেষ্টারাও ইয়েমেনে যান। তারা বাব আল-মান্দেবে সম্ভাব্য ফি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা রয়টার্সকে বলেন, হুথিরা রেড সির ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে এবং সুযোগ পেলে জাহাজ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বাণিজ্য ঝুঁকি

দুই পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, এমন উদ্যোগ উপসাগরীয় দেশ ও ইউরোপের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং এ পরিস্থিতি বদলানোর রাজনৈতিক আগ্রহও সীমিত।

একই সময়ে, এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওমানের প্রস্তাবিত হরমুজ প্রণালির যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছা ফি আদায়ের ধারণাও তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে উপসাগরীয় বাণিজ্য সংকট নিরসনের সম্ভাবনাও আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সৌদি জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেবে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ রুট হারাবে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজা যুদ্ধের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিদের জাহাজে হামলার কারণে রেড সির বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত বছরের গাজা যুদ্ধবিরতির পর হামলা কমলেও সম্প্রতি সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দায় হুথিরা স্বীকার করেছে।

২০২৪ সালের জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, নিরাপদে চলাচলের বিনিময়ে কিছু শিপিং এজেন্সির কাছ থেকে হুথিরা অর্থ আদায় করেছিল। যদিও ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য মাসিক আদায়ের পরিমাণ ১৮০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হলেও সেটিও নিশ্চিত নয়।

বাব আল-মান্দেব হয়ে এশিয়ায় পৌঁছাতে গড়ে ১৬ দিন লাগে। কিন্তু জাহাজকে যদি সুয়েজ খাল এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে যেতে হয়, তাহলে একই যাত্রায় প্রায় ৫০ দিন সময় লাগে।

রেড সিতে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে হুথিদের আলোচনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি করেছে।