০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চাঁদের আড়াল থেকে পৃথিবীর বিদায়: ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গেল অনন্য সূর্যগ্রহণ ফ্যাশন ও প্রযুক্তির নতুন জোট: স্মার্ট চশমা থেকে ফিফথ অ্যাভিনিউ—নতুন যুগের শুরু বেগুনি রঙের জাদুতে বিশ্বজয়: খাবারের দুনিয়ায় উবের উত্থানের গল্প সময়ের নতুন ভাষা: আধুনিক ঘড়িতে ফিরে এলো ইতিহাসের স্পন্দন স্মৃতির শহর হারিয়ে যাচ্ছে: বোম্বে নিয়ে ডিএজি প্রদর্শনীতে উঠে এল বিস্মৃত ইতিহাস তারকার ঝলক ছাপিয়ে গয়নার জাদু: রেড কার্পেটে নতুন ট্রেন্ডের গল্প ডিলান–লেননের লিমুজিন আলাপ: সঙ্গীতের বন্ধুত্ব, দ্বন্দ্ব আর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রোটিন আতঙ্ক নাকি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন? স্মার্ট শহরের পথে বাংলাদেশ: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নগরজীবন ক্যাটওয়াক শেখার নতুন ট্রেন্ড: হাঁটার ভঙ্গিতেই বদলে যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস

ট্রাম্পের কণ্ঠে খামেনির বিদায়ের ডাক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ও তার পরের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নতুন নেতৃত্বের আহ্বান
শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে খামেনির একাধিক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টগুলোতে খামেনি ইরানের বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক সপ্তাহে বদলে যাওয়া সুর
গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের বক্তব্যে নাটকীয় ওঠানামা দেখা গেছে। কখনও সামরিক হামলার হুমকি, কখনও ইরানের বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙার আহ্বান, আবার কখনও মৃত্যুদণ্ড বন্ধের জন্য তেহরানকে ধন্যবাদ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর বার্তা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর এই বাকযুদ্ধ আরও জোরালো হয়।

খামেনির পাল্টা আক্রমণ
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি ট্রাম্পকে অপরাধী আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা স্বীকারের ইঙ্গিত দেয়। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছেন এবং সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
খামেনি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নিজের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তি দায়ী।

সামরিক হুমকি থেকে নরম সুর
গত সপ্তাহে দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা শত ছাড়ালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক বিকল্প তার সামনে রয়েছে। পরে মৃতের সংখ্যা হাজারে পৌঁছালে তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শুক্রবার এসে তিনি সুর নরম করে দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব আট শতাধিক মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে, যদিও এর পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া
খামেনির বক্তব্য শোনার পর ট্রাম্প কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, খামেনি দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছেন এবং নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতা ব্যবহার করছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, খামেনি অসুস্থ মানসিকতার মানুষ, যার উচিত নিজের দেশ সঠিকভাবে চালানো এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদের আড়াল থেকে পৃথিবীর বিদায়: ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গেল অনন্য সূর্যগ্রহণ

ট্রাম্পের কণ্ঠে খামেনির বিদায়ের ডাক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র

০৯:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ও তার পরের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

নতুন নেতৃত্বের আহ্বান
শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে খামেনির একাধিক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টগুলোতে খামেনি ইরানের বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক সপ্তাহে বদলে যাওয়া সুর
গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের বক্তব্যে নাটকীয় ওঠানামা দেখা গেছে। কখনও সামরিক হামলার হুমকি, কখনও ইরানের বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভাঙার আহ্বান, আবার কখনও মৃত্যুদণ্ড বন্ধের জন্য তেহরানকে ধন্যবাদ—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিকর বার্তা। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, দমন অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর এই বাকযুদ্ধ আরও জোরালো হয়।

খামেনির পাল্টা আক্রমণ
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি ট্রাম্পকে অপরাধী আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা স্বীকারের ইঙ্গিত দেয়। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের উসকানি দিয়েছেন এবং সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
খামেনি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নিজের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তি দায়ী।

সামরিক হুমকি থেকে নরম সুর
গত সপ্তাহে দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা শত ছাড়ালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক বিকল্প তার সামনে রয়েছে। পরে মৃতের সংখ্যা হাজারে পৌঁছালে তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে শুক্রবার এসে তিনি সুর নরম করে দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব আট শতাধিক মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে, যদিও এর পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া
খামেনির বক্তব্য শোনার পর ট্রাম্প কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, খামেনি দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছেন এবং নজিরবিহীন মাত্রার সহিংসতা ব্যবহার করছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, খামেনি অসুস্থ মানসিকতার মানুষ, যার উচিত নিজের দেশ সঠিকভাবে চালানো এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করা।