০৯:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল ট্রাম্পের কণ্ঠে খামেনির বিদায়ের ডাক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র সিরিয়ার বৃহত্তম তেলক্ষেত্র ছাড়ল কুর্দি বাহিনী, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে সরকার নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারায় দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ালেন যাত্রীরা শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যা, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, মৃত্যু ছাড়াল ত্রিশ ইরানে বিক্ষোভ দমন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি খামেনির, ‘ঘরোয়া অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না’ গাজা শাসনে নতুন ধাপ, বোর্ডে রিম আল হাশিমি ও গারগাশ একাডেমির প্রধান

অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ে আমেরিকানদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে

[অনুদান অভিযান ও জনমত জরিপ]
চিকিৎসা বিল, শেষকৃত্যের খরচ ও দুর্যোগ ত্রাণের জন্য অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং এখন আমেরিকান সমাজে দৈনন্দিন বিষয় হয়ে উঠেছে, তবে নতুন এক জরিপ বলছে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর মানুষের ভরসা কমছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নর্‌ক পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে অনুদান সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়; ৪১ শতাংশ একেবারেই আস্থা রাখেন না। অনেকেই অভিযোগ করেন, গোফান্ডমি ও অনুরূপ সাইটগুলো উচ্চ “প্রক্রিয়াকরণ ফি” ও “টিপ” নেওয়ার কারণে অনুদানের বড় অংশ কেটে রাখে; উদাহরণস্বরূপ, গোফান্ডমি দাতাকে ডিফল্টভাবে ১৭.৫ শতাংশ টিপ যোগ করতে উৎসাহিত করে, যদিও আলাদা প্ল্যাটফর্ম ফি নেই। জরিপে আরও দেখা যায়, কেবল ১০ শতাংশ প্রচারণা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, আর গড় দানের পরিমাণ বিগত দুই বছরে কমেছে। তবু অর্ধেকের বেশি আমেরিকান অন্তত একবার অনলাইনে অনুদান দিয়েছেন, যা দেখায় যে প্রয়োজন ও হতাশা পাশাপাশি বাড়ছে।

জরিপটি অনলাইন দানের বড় বৈষম্যও তুলে ধরেছে। ধনী ও বড় সামাজিক নেটওয়ার্কযুক্ত ব্যক্তিরা খুব দ্রুত হাজার হাজার ডলার তুলতে পারেন, কিন্তু দরিদ্র বা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রচারণা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ, কানসাস সিটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রেনে নিকোল গুডের পরিবারের জন্য প্রচারণা কয়েক দিনে ৫ লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে যায়, অথচ পুলিশের হেফাজতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ কিথ পোর্টার জুনিয়রের পরিবার ৫০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রাও ছুঁতে পারেনি। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এই বৈষম্য মার্কিন সমাজের বৃহত্তর অসমতা প্রতিফলিত করে; যেখানে কারো চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তাদের পরিচিতজন ও গল্পের আকর্ষণ নির্ভর করে। সমালোচকেরা যুক্তি দেন, অনলাইন দান নির্ভরতা রাষ্ট্রকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কমাতে উৎসাহিত করতে পারে এবং “যোগ্য” ও “অযোগ্য” ভুক্তভোগীর ধারণা তৈরি করে, যা অসাম্যের চক্রকে শক্তিশালী করে।

[স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ডাক]
মোট আস্থার ঘাটতি platforms‑এর বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আহ্বান জোরালো করছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো ফি ও টিপের কাঠামো স্বচ্ছ করতে, প্রকৃত প্রাপকের কাছে কত অর্থ যাচ্ছে তা সূচিত করতে এবং প্রতারক প্রচারণা রোধে কঠোর যাচাই‑বাছাই প্রক্রিয়া চালু করতে বলছে। গোফান্ডমি বলে যে তারা বহুল প্রচারিত প্রচারণা পর্যালোচনা করে, কিন্তু প্রতিটি অভিযানের বৈধতা যাচাই করা সম্ভব নয়; সমালোচকেরা মনে করেন, এসব ফাঁক প্রতারণাকে উৎসাহিত করে। কিছু রাজ্য ক্রাউডফান্ডিংকে দাত charity খাতে নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যাটি প্রযুক্তিগত নয়; বরং এর শিকড় স্ব health খরচ বৃদ্ধি, অসম বীমা কাভারেজ ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। তারা মনে করেন, এমন ব্যক্তিগত দান সরকারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবে না; বরং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শক্তিশালী বেকারভাতা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির উপর জোর দিতে হবে।

এই বিতর্ক মানুষের দানের নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সফল প্রচারণাগুলোতে প্রায়ই পেশাদার ভিডিও ও হৃদয়স্পর্শী গল্প থাকে; ফলে দানকারীরা “যোগ্য ভুক্তভোগী” বেছে নেন। ফেক ক্যান্সার মামলার মতো প্রতারণা কাহিনি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং কঠোর নজরদারির দাবি বাড়িয়েছে। প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর সংগঠনগুলো বলছে, অনেক মানুষ ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবে প্রচারণা শুরুই করতে পারেন না বা জনসমক্ষে নিজেদের দুর্দশা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন। অন্যরা আশঙ্কা করেন, অনলাইন দানের সহজাত প্রবণতা ধনীদের মনে করিয়ে দেয় যে তারা সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে, ফলে সিস্টেম সংস্কারের জন্য চাপ কমে যায়। যতক্ষণ না প্ল্যাটফর্মগুলো আরও স্বচ্ছ হয় ও রাষ্ট্র সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ায়, ততক্ষণ আস্থা কমতে থাকবে—যদিও সহানুভূতির তাগিদে লাখো মানুষ অনলাইনে দান করে যাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল

অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ে আমেরিকানদের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে

০৭:০৮:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

[অনুদান অভিযান ও জনমত জরিপ]
চিকিৎসা বিল, শেষকৃত্যের খরচ ও দুর্যোগ ত্রাণের জন্য অনলাইন ক্রাউডফান্ডিং এখন আমেরিকান সমাজে দৈনন্দিন বিষয় হয়ে উঠেছে, তবে নতুন এক জরিপ বলছে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর মানুষের ভরসা কমছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নর্‌ক পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে অনুদান সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়; ৪১ শতাংশ একেবারেই আস্থা রাখেন না। অনেকেই অভিযোগ করেন, গোফান্ডমি ও অনুরূপ সাইটগুলো উচ্চ “প্রক্রিয়াকরণ ফি” ও “টিপ” নেওয়ার কারণে অনুদানের বড় অংশ কেটে রাখে; উদাহরণস্বরূপ, গোফান্ডমি দাতাকে ডিফল্টভাবে ১৭.৫ শতাংশ টিপ যোগ করতে উৎসাহিত করে, যদিও আলাদা প্ল্যাটফর্ম ফি নেই। জরিপে আরও দেখা যায়, কেবল ১০ শতাংশ প্রচারণা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, আর গড় দানের পরিমাণ বিগত দুই বছরে কমেছে। তবু অর্ধেকের বেশি আমেরিকান অন্তত একবার অনলাইনে অনুদান দিয়েছেন, যা দেখায় যে প্রয়োজন ও হতাশা পাশাপাশি বাড়ছে।

জরিপটি অনলাইন দানের বড় বৈষম্যও তুলে ধরেছে। ধনী ও বড় সামাজিক নেটওয়ার্কযুক্ত ব্যক্তিরা খুব দ্রুত হাজার হাজার ডলার তুলতে পারেন, কিন্তু দরিদ্র বা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রচারণা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ, কানসাস সিটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রেনে নিকোল গুডের পরিবারের জন্য প্রচারণা কয়েক দিনে ৫ লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে যায়, অথচ পুলিশের হেফাজতে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ কিথ পোর্টার জুনিয়রের পরিবার ৫০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রাও ছুঁতে পারেনি। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এই বৈষম্য মার্কিন সমাজের বৃহত্তর অসমতা প্রতিফলিত করে; যেখানে কারো চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তাদের পরিচিতজন ও গল্পের আকর্ষণ নির্ভর করে। সমালোচকেরা যুক্তি দেন, অনলাইন দান নির্ভরতা রাষ্ট্রকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কমাতে উৎসাহিত করতে পারে এবং “যোগ্য” ও “অযোগ্য” ভুক্তভোগীর ধারণা তৈরি করে, যা অসাম্যের চক্রকে শক্তিশালী করে।

[স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ডাক]
মোট আস্থার ঘাটতি platforms‑এর বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আহ্বান জোরালো করছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো ফি ও টিপের কাঠামো স্বচ্ছ করতে, প্রকৃত প্রাপকের কাছে কত অর্থ যাচ্ছে তা সূচিত করতে এবং প্রতারক প্রচারণা রোধে কঠোর যাচাই‑বাছাই প্রক্রিয়া চালু করতে বলছে। গোফান্ডমি বলে যে তারা বহুল প্রচারিত প্রচারণা পর্যালোচনা করে, কিন্তু প্রতিটি অভিযানের বৈধতা যাচাই করা সম্ভব নয়; সমালোচকেরা মনে করেন, এসব ফাঁক প্রতারণাকে উৎসাহিত করে। কিছু রাজ্য ক্রাউডফান্ডিংকে দাত charity খাতে নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সমস্যাটি প্রযুক্তিগত নয়; বরং এর শিকড় স্ব health খরচ বৃদ্ধি, অসম বীমা কাভারেজ ও দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। তারা মনে করেন, এমন ব্যক্তিগত দান সরকারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবে না; বরং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, শক্তিশালী বেকারভাতা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির উপর জোর দিতে হবে।

এই বিতর্ক মানুষের দানের নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সফল প্রচারণাগুলোতে প্রায়ই পেশাদার ভিডিও ও হৃদয়স্পর্শী গল্প থাকে; ফলে দানকারীরা “যোগ্য ভুক্তভোগী” বেছে নেন। ফেক ক্যান্সার মামলার মতো প্রতারণা কাহিনি আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং কঠোর নজরদারির দাবি বাড়িয়েছে। প্রতিবন্ধী ও নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর সংগঠনগুলো বলছে, অনেক মানুষ ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাবে প্রচারণা শুরুই করতে পারেন না বা জনসমক্ষে নিজেদের দুর্দশা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন। অন্যরা আশঙ্কা করেন, অনলাইন দানের সহজাত প্রবণতা ধনীদের মনে করিয়ে দেয় যে তারা সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে, ফলে সিস্টেম সংস্কারের জন্য চাপ কমে যায়। যতক্ষণ না প্ল্যাটফর্মগুলো আরও স্বচ্ছ হয় ও রাষ্ট্র সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ায়, ততক্ষণ আস্থা কমতে থাকবে—যদিও সহানুভূতির তাগিদে লাখো মানুষ অনলাইনে দান করে যাবেন।