দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ নেতারা সুতো আমদানিতে নতুন শুল্ক ও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত চলমান সংকটকে আরও গভীর করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতাশক্তিকে দুর্বল করে দেবে।
সোমবার ঢাকায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই উদ্বেগের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিল্প খাতের বাস্তবতা উপেক্ষা করে শুল্ক ও বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা সমস্যার সমাধান নয়, বরং নতুন সংকট তৈরি করবে।
স্থানীয় সুতো ব্যবহারে জোর নয়, বাস্তবসম্মত সমাধানের দাবি
বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, রপ্তানিকারকেরা সব সময়ই স্থানীয় সুতো ব্যবহারে আগ্রহী, যদি এর দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কিন্তু শুল্ক বা কৃত্রিম বাধা দিয়ে স্থানীয় সুতো কিনতে বাধ্য করলে সংকটের সমাধান হবে না, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের সমান দামে স্থানীয় সুতো পাওয়া গেলে আমদানির প্রয়োজনই থাকত না। কৃত্রিমভাবে বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করলে শিল্পের ক্ষতি হবে। এ অবস্থায় তিনি শুল্ক আরোপের পথ পরিহার করে নগদ প্রণোদনা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং অনুকূল কর ও সুদের হার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এসব বিষয়ে কর্ণপাত না করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
নিটওয়্যার খাতে কাঁচামালের সংকটের আশঙ্কা
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, স্থানীয় ও আমদানিকৃত সুতোর দামের পার্থক্য আগে থেকেই ছিল। তবে নগদ প্রণোদনা কমানোর পর এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। তিনি মিশ্রণ ও কৃত্রিম তন্তুর সুতো আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের সুপারিশের কঠোর সমালোচনা করেন।
তার মতে, নিটওয়্যার খাতে দেশে এখনও পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। কৃত্রিমভাবে সুতো আমদানি বন্ধ করা হলে উদ্যোক্তারা বাধ্য হয়ে তৈরি কাপড় আমদানি করবেন। এতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল সংকোচনে বাড়ছে চাপ
সংবাদ সম্মেলনে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মোহাম্মদ হাতেম জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী এই তহবিল সাতশো কোটি ডলার থেকে কমে দুইশো কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অথচ অবশিষ্ট অর্থের বড় অংশ এখনও অনেক ব্যবসায়ী পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, আর্থিক খাত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও নীতিগত প্রশ্ন
আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ভারত তাদের বস্ত্র ও পোশাক খাতে শক্তিশালী প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ রূপান্তরকালীন এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের খাতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছে না।
নেতাদের মতে, সময়োপযোগী ও শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ না করলে তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















