০৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল ট্রাম্পের কণ্ঠে খামেনির বিদায়ের ডাক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র সিরিয়ার বৃহত্তম তেলক্ষেত্র ছাড়ল কুর্দি বাহিনী, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে সরকার নতুন বাংলাদেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারায় দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষ চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, অল্পের জন্য প্রাণহানি এড়ালেন যাত্রীরা শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যা, জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, মৃত্যু ছাড়াল ত্রিশ ইরানে বিক্ষোভ দমন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি খামেনির, ‘ঘরোয়া অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না’ গাজা শাসনে নতুন ধাপ, বোর্ডে রিম আল হাশিমি ও গারগাশ একাডেমির প্রধান

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর বিএনপির আস্থা: মির্জা ফখরুল

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন সক্ষম হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছে এবং নির্বাচন পরিচালনায় তারা সক্ষমতার পরিচয় দেবে বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু জটিলতা বা বিতর্ক তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। এটি প্রতিটি নির্বাচনেই হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে মোটামুটি দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দলের অবস্থান
মির্জা ফখরুল জানান, রোববার বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রধানের কাছে দলের কিছু উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এরপরও দলের পক্ষ থেকে এই কমিশনের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে। তার ভাষায়, এই নির্বাচন কমিশন দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বলেই বিএনপি বিশ্বাস করে।

সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি তুলছে না।

জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি নেতারা। এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডা. আবদুল মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরে তারা জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়াকেও গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এখানেই সমাহিত করা হয়।

ইসির ওপর আস্থা রাখছে বিএনপি; সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাবাদ মির্জা ফখরুলের

অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি মির সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মির নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেসারুল হক ও এস এম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও মহানগর ইউনিট, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতারাও আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তারা আজ এখানে এসেছেন। তার মতে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিনশ্বর নাম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে একটি প্রবৃদ্ধিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করেছিলেন।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের পাশেই শায়িত আছেন আরেকজন অসাধারণ ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এখন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন অঙ্গীকার নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও কুশাসনে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার শপথ নিয়েছে বিএনপি। এই শপথের মধ্য দিয়ে দলটি ও এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংকল্পই শক্তি: সন্ত্রাস দমনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৃঢ় অবস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার কৌশল

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর বিএনপির আস্থা: মির্জা ফখরুল

০৭:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশন সক্ষম হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছে এবং নির্বাচন পরিচালনায় তারা সক্ষমতার পরিচয় দেবে বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু জটিলতা বা বিতর্ক তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। এটি প্রতিটি নির্বাচনেই হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে মোটামুটি দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দলের অবস্থান
মির্জা ফখরুল জানান, রোববার বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রধানের কাছে দলের কিছু উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। এরপরও দলের পক্ষ থেকে এই কমিশনের ওপর আস্থা রাখা হচ্ছে। তার ভাষায়, এই নির্বাচন কমিশন দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বলেই বিএনপি বিশ্বাস করে।

সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ না পাওয়ার বিষয়ে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আপত্তি তুলছে না।

জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি নেতারা। এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ডা. আবদুল মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদ।

পরে তারা জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়াকেও গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর এখানেই সমাহিত করা হয়।

ইসির ওপর আস্থা রাখছে বিএনপি; সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাবাদ মির্জা ফখরুলের

অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি মির সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মির নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেসারুল হক ও এস এম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও মহানগর ইউনিট, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্রদল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতারাও আলাদাভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তারা আজ এখানে এসেছেন। তার মতে, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিনশ্বর নাম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন এবং ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে একটি প্রবৃদ্ধিমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করেছিলেন।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের পাশেই শায়িত আছেন আরেকজন অসাধারণ ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এখন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের নতুন অঙ্গীকার নেওয়া হচ্ছে।

তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও কুশাসনে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার শপথ নিয়েছে বিএনপি। এই শপথের মধ্য দিয়ে দলটি ও এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করছে।