ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নেয় না। কোন পথে দেশ এগোবে এবং কাকে তারা নেতৃত্বে দেখতে চায়, সেটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।
বুধবার রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে অল্প কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং সামনে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহাসিক জাতীয় নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শুনেছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, যাতে পারস্পরিক শান্তি ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া যায়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিরপেক্ষ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র এ দেশের জনগণের।
বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
রাষ্ট্রদূত জানান, তিনি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দুই দেশের নিরাপত্তা জোরদারে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্কের বিস্তৃত দিক তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রধান অগ্রাধিকার হবে। তাঁর মতে, এই সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য দুই দেশের সামনে বহু সুযোগ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ১৫ জানুয়ারি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেন। পরে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বন্ধু দেশ হিসেবে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত এবং এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পঞ্চাশ বছরের অংশীদারিত্বের কথা স্মরণ
রাষ্ট্রদূত বলেন, গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রেখে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকায় আগমন ও দায়িত্ব গ্রহণ
১৯তম মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন তাঁর স্ত্রী ডিয়ান দাওকে সঙ্গে নিয়ে ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় এসে তিনি জানান, বাংলাদেশ তাঁর কাছে স্মৃতিময় একটি দেশ এবং এখানে ফিরে এসে তিনি আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাসের মার্কিন ও স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তিনি আগ্রহী।
পেশাগত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পান। এর আগে তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনে কাজ করেছেন। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি পরিসংখ্যান ও অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় পারদর্শী এবং আরও কয়েকটি ভাষা অধ্যয়ন করেছেন।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ফরেন সার্ভিসে যোগদানের আগে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















