১১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি আল জাজিরার প্রতিবেদন:বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী কী এবার ক্ষমতায় যাবে? অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেয় না: বাংলাদেশিদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত যশোরে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা শেয়ারবাজারে দরপতনে লেনদেনের গতি কমল ব্যাংক বেশি, অর্থনীতির জন্য ১০–১৫টিই যথেষ্ট: গভর্নর নড়াইলে বাড়িতে মিলল ১০ বছরের শিশুর মরদেহ

বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি

জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যানবাহন আমদানিতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত ছয় মাসে বিপুল সংখ্যক গাড়ি আমদানি হওয়ায় সরকারের শুল্ক রাজস্বেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বন্দরের মাধ্যমে সাত হাজারের বেশি যানবাহন ছাড় করা হয়েছে। এসব গাড়ি থেকে সরকার শুল্ক বাবদ এক হাজার দুইশ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে। বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এত বেশি সংখ্যক যানবাহন ছাড়ের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস—দুটির ক্ষেত্রেই রেকর্ড।

চাহিদা বৃদ্ধি ও দ্রুত ছাড়
কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিগত উদ্যোগের ফলে আমদানিকৃত যানবাহন ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে বাজারে চাহিদা বাড়ায় আমদানিকারকেরা আগেভাগেই গাড়ি দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে শুল্কহার বাড়ার আশঙ্কাও অনেককে দ্রুত আমদানিতে উৎসাহিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে বন্দরের কার শেডে শত শত গাড়ি আটকে থাকত। সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআরের নেওয়া পদক্ষেপে সেই জট খুলতে শুরু করেছে। পুরোনো মজুত গাড়ির পাশাপাশি নতুন আমদানিকৃত যানবাহনও এখন তুলনামূলক দ্রুত ছাড় পাচ্ছে।

কার শেডের চাপ কমেছে
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০টি করে যানবাহন আমদানিকারকেরা বুঝে নিচ্ছেন। এতে বন্দরের কার শেডে যানজট কমেছে এবং নতুন করে গাড়ি আমদানির পথও সহজ হয়েছে। বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি সময় ছাড় না হওয়া যানবাহন কাস্টমসের মাধ্যমে নিলামে তোলার কথা। এখন মাত্র ১০৩টি গাড়ি এই নিলামের শর্ত পূরণ করছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।

মাসভিত্তিক আমদানিতে ঊর্ধ্বগতি
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মাসভিত্তিক গাড়ি আমদানিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে যেখানে মাত্র ৪৫০টি যানবাহন বন্দরে আসে, আগস্টে তা এক হাজার ছাড়ায়। ডিসেম্বর মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৫৮টি।

ছয় মাসে মোট ১৬টি বিশেষায়িত রোল-অন রোল-অফ জাহাজে করে ৮৪১টি একেবারে নতুন গাড়ি এবং ৬ হাজার ২২৫টি অন্যান্য যানবাহন আমদানি করা হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমসের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ওমর ফারুক জানান, অর্থবছরের শুরু তুলনায় এখন যানবাহন আমদানি অনেক বেড়েছে। দ্রুত ছাড়ের ফলে কার শেডে যানজটও কমে এসেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল-আমিন বলেন, আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ৬ হাজার ৬৫১টি যানবাহন ছাড় হয়েছিল, এবার তা বেড়ে আরও এক হাজার ৩৪টি বেশি হয়েছে। রাজস্বও বেড়েছে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা।

বাজার পরিস্থিতি ও বন্দর পছন্দ
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক যানবাহন আমদানি বাজারের গতিধারার প্রতিফলন। বাংলাদেশে প্রতিবছর মূলত জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, অনেক ব্যবসায়ী কম খরচ ও দ্রুত প্রক্রিয়ার কারণে মংলা বন্দরকে বেশি পছন্দ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়ের গতি বাড়ায় সেখানকার জট অনেকটাই কমে গেছে।

বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব
এখন চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কার শেডে মোট ৪৭১টি যানবাহন ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে ধারণক্ষমতা এক হাজার ২৫০টি। কয়েক মাস আগেও এই সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি ছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও ছাড় প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় বন্দরের ওপর চাপ এখন আগের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় নির্বাচনের আগে যখন সাধারণত বাণিজ্য কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন এমন স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দশ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত–ভারত গ্যাস জোট, আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি

বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে যানবাহন আমদানি বেড়েছে, বন্দরের রাজস্বে বড় প্রবৃদ্ধি

০৯:০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যানবাহন আমদানিতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত ছয় মাসে বিপুল সংখ্যক গাড়ি আমদানি হওয়ায় সরকারের শুল্ক রাজস্বেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বন্দরের মাধ্যমে সাত হাজারের বেশি যানবাহন ছাড় করা হয়েছে। এসব গাড়ি থেকে সরকার শুল্ক বাবদ এক হাজার দুইশ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছে। বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এত বেশি সংখ্যক যানবাহন ছাড়ের ঘটনা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস—দুটির ক্ষেত্রেই রেকর্ড।

চাহিদা বৃদ্ধি ও দ্রুত ছাড়
কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিগত উদ্যোগের ফলে আমদানিকৃত যানবাহন ছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে বাজারে চাহিদা বাড়ায় আমদানিকারকেরা আগেভাগেই গাড়ি দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে শুল্কহার বাড়ার আশঙ্কাও অনেককে দ্রুত আমদানিতে উৎসাহিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে বন্দরের কার শেডে শত শত গাড়ি আটকে থাকত। সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআরের নেওয়া পদক্ষেপে সেই জট খুলতে শুরু করেছে। পুরোনো মজুত গাড়ির পাশাপাশি নতুন আমদানিকৃত যানবাহনও এখন তুলনামূলক দ্রুত ছাড় পাচ্ছে।

কার শেডের চাপ কমেছে
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০টি করে যানবাহন আমদানিকারকেরা বুঝে নিচ্ছেন। এতে বন্দরের কার শেডে যানজট কমেছে এবং নতুন করে গাড়ি আমদানির পথও সহজ হয়েছে। বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি সময় ছাড় না হওয়া যানবাহন কাস্টমসের মাধ্যমে নিলামে তোলার কথা। এখন মাত্র ১০৩টি গাড়ি এই নিলামের শর্ত পূরণ করছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।

মাসভিত্তিক আমদানিতে ঊর্ধ্বগতি
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই মাসভিত্তিক গাড়ি আমদানিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে যেখানে মাত্র ৪৫০টি যানবাহন বন্দরে আসে, আগস্টে তা এক হাজার ছাড়ায়। ডিসেম্বর মাসে এই সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৫৮টি।

ছয় মাসে মোট ১৬টি বিশেষায়িত রোল-অন রোল-অফ জাহাজে করে ৮৪১টি একেবারে নতুন গাড়ি এবং ৬ হাজার ২২৫টি অন্যান্য যানবাহন আমদানি করা হয়েছে।

বন্দর ও কাস্টমসের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক ওমর ফারুক জানান, অর্থবছরের শুরু তুলনায় এখন যানবাহন আমদানি অনেক বেড়েছে। দ্রুত ছাড়ের ফলে কার শেডে যানজটও কমে এসেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল-আমিন বলেন, আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ৬ হাজার ৬৫১টি যানবাহন ছাড় হয়েছিল, এবার তা বেড়ে আরও এক হাজার ৩৪টি বেশি হয়েছে। রাজস্বও বেড়েছে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা।

বাজার পরিস্থিতি ও বন্দর পছন্দ
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক যানবাহন আমদানি বাজারের গতিধারার প্রতিফলন। বাংলাদেশে প্রতিবছর মূলত জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, অনেক ব্যবসায়ী কম খরচ ও দ্রুত প্রক্রিয়ার কারণে মংলা বন্দরকে বেশি পছন্দ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়ের গতি বাড়ায় সেখানকার জট অনেকটাই কমে গেছে।

বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব
এখন চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি কার শেডে মোট ৪৭১টি যানবাহন ডেলিভারির অপেক্ষায় রয়েছে, যেখানে ধারণক্ষমতা এক হাজার ২৫০টি। কয়েক মাস আগেও এই সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি ছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও ছাড় প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় বন্দরের ওপর চাপ এখন আগের তুলনায় অনেক কম। জাতীয় নির্বাচনের আগে যখন সাধারণত বাণিজ্য কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন এমন স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।