বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। শেয়ার বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীরা আশঙ্কা করছেন, জীবনের সঞ্চয় হারানোর ঝুঁকি আরও গভীর হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করা হাজারো বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় এক হাজার আট কোটি টাকার শেয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের প্রায় ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার আমানত নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা। খেলাপি ঋণের হার অত্যধিক হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অবসায়নের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে এবং আমানত ফেরতের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের টাকা হারাবেন না এবং পর্যায়ক্রমে অন্যরাও অর্থ ফেরত পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতিই এই সংকটকে গভীর করেছে। পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণের ফলে আজ বিনিয়োগকারী ও সাধারণ আমানতকারীদের ওপর এর বোঝা এসে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত সমাধান চান। তাদের আশঙ্কা, আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আর্থিক খাতে সংকট আরও বড় আকার নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















