নকল টাকায় বিনিয়োগ করে ঝুঁকির স্বাদ নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। বাস্তব বাজারে নামার আগে মোবাইল ও অনলাইনে সিমুলেটরে শেয়ার কেনাবেচা এখন অনেক তরুণের প্রথম পাঠ। কিন্তু এই শেখার পথই কি তাদের অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে।
ঝুঁকির শুরু স্কুল বেঞ্চ থেকেই
নিউ ইয়র্কের কলেজছাত্র রবার্ট রিটজের বিনিয়োগ জীবনের সবচেয়ে লাভজনক লেনদেন হয়েছিল স্কুলে পড়ার সময়। এক মাসের প্রতিযোগিতায় নকল এক লাখ ডলার ঢেলে দিয়েছিলেন একটি জনপ্রিয় শেয়ার ও তার অপশনে। ফল ছিল প্রায় দুই হাজার শতাংশ লাভ। প্রতিযোগিতা জিতলেও হাতে আসেনি আসল টাকা। রিটজ এখন বলছেন, ওই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে কতটা সহজে ঝুঁকির নেশায় পড়ে যাওয়া যায়। তার ভাষায়, বিনিয়োগে হাতেখড়ি হয়েছিল প্রায় জুয়ার মতো।
নকল পোর্টফোলিওতে বাড়ছে তরুণদের ভিড়
বিনিয়োগ সিমুলেটর বা কাগুজে লেনদেন বহু পুরোনো ধারণা। আগে কলম কাগজে হলেও এখন তা পুরোপুরি ডিজিটাল। সাম্প্রতিক বছরে তরুণ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে দেখা গেছে, কয়েক বছরের ব্যবধানে নকল লেনদেন করা ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের অংশ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এই পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অপশন লেনদেনই বেশি আকর্ষণ পাচ্ছে।
খেলার মতো বিনিয়োগ, উত্তেজনার নেশা
নকল টাকায় বিনিয়োগে ক্ষতির ভয় না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে অ্যাপে লেনদেন করা অনেকটা গেম খেলার অনুভূতি দেয়। ধীরে ধীরে নিরাপদ সূচক ভিত্তিক বিনিয়োগের চর্চা সেখানে একঘেয়ে মনে হয়। ফলে তরুণেরা বেশি ঝুঁকির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বাস্তব বাজারে নামার আগে প্রস্তুতির সুযোগ
শুধু নতুনরা নয়, অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরাও কৌশল ঝালিয়ে নিতে নকল লেনদেন ব্যবহার করেন। ক্ষতির ভয় ছাড়া চার্ট বোঝা, কৌশল পরীক্ষা করা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ পান তারা। তরুণ ট্রেডার শামোরি উইলকারসনের অভিজ্ঞতায়, নকল টাকায় অনুশীলন তাকে চার্টের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বাস্তব আয়ে গাড়ি কেনা ও পরিবারের খরচ মেটাতে পেরেছেন।
বাস্তব টাকায় এলে বদলে যায় মনস্তত্ত্ব
তবে নকল আর বাস্তব টাকার পার্থক্য স্পষ্ট। ফিনিক্সের র্যাচেল ভেলাস্কেজের মতে, আসল টাকায় বিনিয়োগে আবেগ অনেক বেশি কাজ করে। নকল টাকায় যা সহজ, বাস্তবে তা অনেক কঠিন হয়ে ওঠে। নিজের বা পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ হলে প্রতিটি সিদ্ধান্তেই ভয় আর দুশ্চিন্তা জড়িয়ে যায়।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বিতর্ক
স্কুলে নকল বিনিয়োগ শেখানো নিয়ে মতভেদ আছে। কিছু শিক্ষক মনে করেন, এতে শিক্ষার্থীরা ভুল বার্তা পায়। হঠাৎ বড় লাভ হলে তারা ভাবে, শেয়ার বাছাই করলেই সফল হওয়া যায়। এতে বিনিয়োগ আর জুয়ার সীমারেখা মুছে যেতে পারে। তাই অনেক শিক্ষক বরং কম খরচের সূচক ভিত্তিক বিনিয়োগের পথ শেখানোর পক্ষেই জোর দেন।
অভিজ্ঞতার পর বদলে যায় দৃষ্টিভঙ্গি
রবার্ট রিটজের বর্তমান পোর্টফোলিও তার স্কুলজীবনের ঝুঁকিপূর্ণ বাজির ধারেকাছেও নেই। এখন তার বিনিয়োগ ছড়ানো, তুলনামূলক নিরাপদ খাতে। অতীতের অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে, সহজে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কতটা বাস্তব। তাই নকল টাকায় শেখা হলেও বাস্তবে পা ফেলছেন অনেক বেশি সতর্ক হয়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















