১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে World Health Organization থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা WHO-তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বাংলাদেশেও।

বৈশ্বিক অর্থসংকট ও WHO-এর সক্ষমতা সংকোচন

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের ফলে WHO গুরুতর বাজেট সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থাপনা কাঠামো সংকুচিত করা, কর্মী সংখ্যা কমানো এবং একাধিক কর্মসূচির ব্যয় হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো—জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা, বৈশ্বিক রোগ নজরদারি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমে গতি কমে আসা।

আরও ২৭০ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানান্তর

বাংলাদেশের জন্য বাস্তব প্রভাব কোথায়

বাংলাদেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত WHO কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল না হলেও, সংস্থাটির কারিগরি সহায়তা ও সমন্বয়মূলক ভূমিকায় বড় অংশীদার। ডেঙ্গু, কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা ভবিষ্যৎ মহামারির ক্ষেত্রে WHO-এর আগাম সতর্কতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং নির্দেশনা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। WHO-এর সক্ষমতা কমে গেলে এসব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়, রোগ প্রতিরোধ এবং জরুরি প্রস্তুতিতে WHO একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সংস্থাটির জনবল ও সম্পদ সংকুচিত হলে ক্যাম্পগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক বার্তা

এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। WHO-এর মহামারি মোকাবিলার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসনের সময় জারি করা নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি ছাড়ছে, যা বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশের করণীয় কী

স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো তাৎক্ষণিক সংকট না দেখা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নিজস্ব জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগ নজরদারি, গবেষণা সক্ষমতা এবং জরুরি স্বাস্থ্য প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সবচেয়ে কার্যকর পথ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

০৭:০০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে World Health Organization থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা WHO-তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে বাংলাদেশেও।

বৈশ্বিক অর্থসংকট ও WHO-এর সক্ষমতা সংকোচন

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের ফলে WHO গুরুতর বাজেট সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থাপনা কাঠামো সংকুচিত করা, কর্মী সংখ্যা কমানো এবং একাধিক কর্মসূচির ব্যয় হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো—জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা, বৈশ্বিক রোগ নজরদারি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমে গতি কমে আসা।

আরও ২৭০ রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানান্তর

বাংলাদেশের জন্য বাস্তব প্রভাব কোথায়

বাংলাদেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত WHO কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল না হলেও, সংস্থাটির কারিগরি সহায়তা ও সমন্বয়মূলক ভূমিকায় বড় অংশীদার। ডেঙ্গু, কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা কিংবা ভবিষ্যৎ মহামারির ক্ষেত্রে WHO-এর আগাম সতর্কতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং নির্দেশনা বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। WHO-এর সক্ষমতা কমে গেলে এসব ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সমন্বয়, রোগ প্রতিরোধ এবং জরুরি প্রস্তুতিতে WHO একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। সংস্থাটির জনবল ও সম্পদ সংকুচিত হলে ক্যাম্পগুলোতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক বার্তা

এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। WHO-এর মহামারি মোকাবিলার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসনের সময় জারি করা নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি ছাড়ছে, যা বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

বাংলাদেশের করণীয় কী

স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো তাৎক্ষণিক সংকট না দেখা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে নিজস্ব জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগ নজরদারি, গবেষণা সক্ষমতা এবং জরুরি স্বাস্থ্য প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানোই হবে এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় সবচেয়ে কার্যকর পথ।