বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপার দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের আবারও নিরাপদ সম্পদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে কড়া বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
সোনার দামে বড় লাফ
সোমবার লেনদেন শেষে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার ফিউচার মূল্য দাঁড়ায় চার হাজার সাতশো ঊনষাট দশমিক ছয় শূন্য ডলার। আগের শুক্রবারের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় তিন দশমিক সাত শতাংশ, যা দুই হাজার বিশ সালের পর সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান। ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে ঝুঁকি বাড়লেই চাহিদা দ্রুত বাড়ে।

রুপাও ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা
রুপার বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র। রুপার ফিউচার দর প্রায় ছয় দশমিক নয় শতাংশ লাফিয়ে প্রতি ট্রয় আউন্স চুরানব্বই দশমিক দুই এক ডলারে পৌঁছায়। এটিও ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। শিল্পখাতে ব্যবহার ও নিরাপদ বিনিয়োগ—দুই দিকের চাহিদাই রুপার দামে এই উল্লম্ফনের পেছনে কাজ করেছে।
খনিশিল্পের শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব
সোনা ও রুপার দামের এই উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে খনিশিল্পের শেয়ারেও দেখা গেছে উল্লাস। নিউমন্টের শেয়ার বেড়েছে প্রায় তিন দশমিক সাত শতাংশ এবং এসএসআর মাইনিংয়ের শেয়ার প্রায় দেড় শতাংশের কাছাকাছি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

অনিশ্চয়তার ধারাবাহিকতা
গত বছর দুই হাজার পঁচিশ সালে সোনা ও রুপা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি দেখায়। চলতি বছরেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে ঘিরে বিচার বিভাগের তদন্ত এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির মতো ঘটনাগুলো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। এর ফলেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার ছেড়ে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















