০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ বিতর্ক: ট্রাম্পের নতুন প্ল্যাটফর্মে নেতানিয়াহুর যোগ, সমান্তরাল কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৮) সোনা–রুপার দামে ইতিহাস, ইউরোপ–আমেরিকা উত্তেজনায় নিরাপদ বিনিয়োগে দৌড় উষ্ণ অ্যান্টার্কটিকায় সময়ের আগেই প্রজনন, বিপন্ন দুই পেঙ্গুইন প্রজাতি প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫৪) নরওয়ের বরফ রাজ্যে ট্রল ট্রেইল: স্কিতে প্রকৃতি, রোমাঞ্চ আর জীবনের স্বাদ ঝুঁকির খেলায় তরুণেরা, নকল টাকায় বিনিয়োগের রোমাঞ্চে গড়ে উঠছে নতুন অভ্যাস তারকা র‍্যাপারের দোদুল্যমান প্রত্যাবর্তন: এএসএপি রকির নতুন অ্যালবাম কতটা বলার আছে

নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ

সমকালের একটি শিরোনাম “নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ”

মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আজ সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তারা। দেশে ফিরে তারা মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, আটজনকে উদ্ধার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস, দেশটির স্থানীয় এনজিও ‘সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইন হিউম্যান ট্রাফিকিং’সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছে ব্র্যাক। বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানবন্দরে কর্মরত ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সবার যাতায়াত ভাড়া, জরুরি খাদ্যসহায়তা ও প্রাথমিক সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়েছে।‌

ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছে, কাউকে সংযুক্ত আরব–আমিরাত, মালয়েশিয়া বা সরাসরি ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার-সংক্রান্ত ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো তাদের।

আজ ফিরেছেন লালমনিরহাটের মো. আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান, ঢাকার রহিম বাদশা, খুলনার এসকে মিনহাজুল হোসেন, নরসিংদীর মো. মেহরাজ হাসান, ফরিদপুরের রিয়াজ ফকির, গাজীপুরের রিপন মিয়া এবং বান্দরবানের উলহাসায় মারমা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মেহরাজ হাসান জানিয়েছেন, ঢাকার বাসা থেকে দুবাই ও পরে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার-সংক্রান্ত কাজের প্রলোভনে যান। মিয়ানমারে তাকে জোরপূর্বক দেড় বছরের চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া হত। যার মধ্যে ছিল রোদে মাঠে দৌড়ানো, ২০ লিটার ওজনের পানির পাত্র বহন করা এবং দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা।

রিয়াজ ফকির ও রহিম বাদশা জানিয়েছেন, প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে প্রবেশের পর তাদের মায়েসট সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে জোরপূর্বক কাজের চুক্তি বাধ্য করা হয় এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

রিপন মিয়া বলেন, মালয়েশিয়া থেকে উন্নত কাজের আশায় থাইল্যান্ডে আসার পর তাকে মিয়ানমারে আটকে রাখা হয়। তার পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক কাজের চুক্তিতে বাধ্য করা হয়।
মিনহাজুল হোসেন জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থাইল্যান্ডে আসার পর মায়েসট এলাকায় আটকা পড়েন। এক বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে দেশে ফেরার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়। প্রত্যেকের নির্ধারিত কাজ ছিল মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এই টার্গেট পূরণে সামান্য ভুল বা ব্যর্থতা হলেই চলতো চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম “বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস”

বাংলাদেশে একদা নিষিদ্ধ বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দলটির ভূমিকা ও পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদে দলটির ছাত্রসংগঠনের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশান্বিত। তাদের কাছে ‘মধ্যপন্থী ইসলামি দল’ তকমা পাওয়া জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশটি। ক্ষমতায় গিয়ে জামায়াত যদি তাদের কথা না শোনে, তাহলে শুল্ক আরোপসহ কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটির হুবহু অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসের সেরা ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। কঠোর হাতে দেশ পরিচালনাকারী এই নেত্রীর শাসনামলেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কোণঠাসা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে সন্তান পালনের দায়িত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছে। দলটি বলছে, এখন তাদের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি দূর করা।

বাংলাদেশে দ্রুত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকেরা ইসলামপন্থী এই পুনরুত্থানশীল দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামঘেঁষা’ হয়ে উঠেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে। অডিও রেকর্ডে এসব মন্তব্য শোনা যায়।

ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ জামায়াতের ‘প্রভাবশালী’ ছাত্রসংগঠন শিবিরের নেতাদের অনুষ্ঠানে আনতে পারবেন কি না, তা বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান তিনি। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আপনারা কি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তাঁরা কি অনুষ্ঠানে আসবেন?’

নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি।জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেবে— এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিতে পারবে।’ তিনি বলেন, দলটির নেতারা উদ্বেগজনক কোনো পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারে।

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “স্বর্ণের দাম কমল, ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা”

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের দামের সঙ্গে কমেছে রৌপ্যের দামও। প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

মানবজমিনের একটি শিরোন “টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ”

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে কি তবে কালো অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে? নাকি এটি আত্মমর্যাদা রক্ষার এক আপসহীন লড়াই! সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো বাংলাদেশ। খেলোয়াড় ও দলের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না টাইগাররা। নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৯৯’র পর এই প্রথম কোনো আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। উপস্থিত ছিলেন- নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল খেলোয়াড়দের কাছে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা। আইসিসি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও মাথা নত করতে নারাজ বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বাস্তব’ ও ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই শঙ্কাকে হালকাভাবে দেখার বা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এটি কেবল বিসিবি’র অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল কেবল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা এবং তাদের ব্যক্তিগত মতামত এখানে মুখ্য ছিল না। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সরকার, তাই কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের বিপদের মুখে ঠেলে দিতে রাজি নন নীতিনির্ধারকরা। বৈঠকে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা বা চাওয়ার চেয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশ্লেষণকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টার মতে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনাটি ছিল ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ বা গোপনীয় আলাপ, যেখানে তিনি সরকারকে কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো- তা বুঝিয়ে বলেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি আরও খোলাসা করেন। এই সিদ্ধান্ত যে অপরিবর্তনীয় এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণ সরকারের, তা তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট। আসিফ বলেন, ‘আপনাদের আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা- এটা আমাদের সরকারি সিদ্ধান্ত।’
নিরাপত্তা শঙ্কার মূল কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের সাম্প্রতিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে সামনে এনেছেন উপদেষ্টা। গত ৩রা জানুয়ারি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে এই বাঁহাতি পেসারকে আকস্মিকভাবে বাদ দেয়া হয়। আসিফ উল্লেখ করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। যেখানে খোদ স্বাগতিক বোর্ড টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাদের নিজেদের লীগে একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আইসিসি বা ভারত সরকার কেউ আশ্বস্ত করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি বা দুঃখপ্রকাশ করেনি। মোস্তাফিজের ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখলেও বাংলাদেশ সরকার এটিকে দেখছে সুনির্দিষ্ট হুমকি হিসেবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। উপদেষ্টা যোগ করেন, ‘ভারত আমাদের মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। তাহলে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে এটা আমরা কিসের ভিত্তিতে বিশ্বাস করবো? ভারত আমাদের কনভিন্স করার কোনো চেষ্টাই করে নাই।’

আইসিসি’র সমালোচনায় বুলবুল: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসি’র ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘দ্বিমুখী’ আচরণের প্রতিবাদ জানান। আইসিসি’র সঙ্গে ২১শে জানুয়ারি মিটিংয়ে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয়কে তিনি ‘শকিং’ বা বিস্ময়কর হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুলবুল জানান, মোস্তাফিজ কোনো ইনজুরি বা ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়াননি, তাকে নিরাপত্তাজনিত কারণে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকেই বিসিবি আইসিসি’র কাছে বিকল্প ভেন্যুর দাবি জানিয়ে আসছে। অতীতেও নিরাপত্তার কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বা ২০০৩ বিশ্বকাপে যেমন নিরাপত্তা শঙ্কায় ভেন্যু বদল বা ওয়াকওভারের ঘটনা ঘটেছিল, তেমনি গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হাইব্রিড মডেল ব্যবহার করা হয়েছিল। বাংলাদেশও ‘সি’ গ্রুপে থাকা ইংল্যান্ড, ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচগুলো ভারতের কলকাতা ও মুম্বইয়ের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই যৌক্তিক আবেদনে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। উল্টো তারা চাপ প্রয়োগের কৌশল বেছে নিয়েছে, যা স্বাধীন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের জন্য অবমাননাকর। বুলবুল বলেন, ‘মিটিংয়ে মোস্তাফিজের ঘটনাটাকে একটা সিঙ্গেল আইসোলেটেড ইরেলেভেন্ট ইস্যু বলা হয়েছে। এটা ইরেলেভেন্ট ইস্যু না, এটা ক্রিকেট খেলা ছিল এবং যেই দেশে খেলা ছিল দে আর দ্য সোল অথরিটি।’

আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল, যা গতকাল শেষ হয়েছে। তবে বিসিবি সভাপতি এই সময়সীমাকে অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে হুট করে সময়সীমা চাপিয়ে দিতে পারে না। বাংলাদেশ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে। দল শ্রীলঙ্কায় খেলতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইসিসি’র ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া হলেও হাল ছাড়ছে না বোর্ড। বাংলাদেশের  মানুষের আবেগ ও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে আইসিসি সুবিচার করবে বলে এখনো আশা প্রকাশ করেন বিসিবি প্রধান। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তা শঙ্কা উপেক্ষা করে দল পাঠানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। বিসিবি এখনো অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছে, যেখানে আইসিসি তাদের জেদ থেকে সরে আসবে। বুলবুল দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘একটা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এভাবে ২৪ ঘণ্টা বেঁধে দিতে পারে না। উই উইল কিপ ফাইটিং। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমাদের দল প্রস্তুত আছে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

WHO থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়: বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যে কী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে

নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ

০৭:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “নির্যাতন চালিয়ে করানো হতো সাইবার জালিয়াতির কাজ”

মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধার আটজন বাংলাদেশি নাগরিক আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আজ সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তারা। দেশে ফিরে তারা মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, আটজনকে উদ্ধার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস, দেশটির স্থানীয় এনজিও ‘সিভিল সোসাইটি নেটওয়ার্ক ফর ভিকটিম অ্যাসিস্ট্যান্স ইন হিউম্যান ট্রাফিকিং’সহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করেছে ব্র্যাক। বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমানবন্দরে কর্মরত ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে সবার যাতায়াত ভাড়া, জরুরি খাদ্যসহায়তা ও প্রাথমিক সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়েছে।‌

ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছে, কাউকে সংযুক্ত আরব–আমিরাত, মালয়েশিয়া বা সরাসরি ঢাকা থেকে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার-সংক্রান্ত ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা মায়েসট হয়ে তাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। ভয়াবহ নির্যাতন করে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতির কাজ করানো হতো তাদের।

আজ ফিরেছেন লালমনিরহাটের মো. আব্দুল মালেক, হাবিবুর রহমান, ঢাকার রহিম বাদশা, খুলনার এসকে মিনহাজুল হোসেন, নরসিংদীর মো. মেহরাজ হাসান, ফরিদপুরের রিয়াজ ফকির, গাজীপুরের রিপন মিয়া এবং বান্দরবানের উলহাসায় মারমা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে মেহরাজ হাসান জানিয়েছেন, ঢাকার বাসা থেকে দুবাই ও পরে থাইল্যান্ডে কম্পিউটার-সংক্রান্ত কাজের প্রলোভনে যান। মিয়ানমারে তাকে জোরপূর্বক দেড় বছরের চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে তাকে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া হত। যার মধ্যে ছিল রোদে মাঠে দৌড়ানো, ২০ লিটার ওজনের পানির পাত্র বহন করা এবং দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা।

রিয়াজ ফকির ও রহিম বাদশা জানিয়েছেন, প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে প্রবেশের পর তাদের মায়েসট সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে জোরপূর্বক কাজের চুক্তি বাধ্য করা হয় এবং প্রতিনিয়ত শারীরিক ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

রিপন মিয়া বলেন, মালয়েশিয়া থেকে উন্নত কাজের আশায় থাইল্যান্ডে আসার পর তাকে মিয়ানমারে আটকে রাখা হয়। তার পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক কাজের চুক্তিতে বাধ্য করা হয়।
মিনহাজুল হোসেন জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে থাইল্যান্ডে আসার পর মায়েসট এলাকায় আটকা পড়েন। এক বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে দেশে ফেরার বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়। প্রত্যেকের নির্ধারিত কাজ ছিল মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর সংগ্রহ করা। এই টার্গেট পূরণে সামান্য ভুল বা ব্যর্থতা হলেই চলতো চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম “বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস”

বাংলাদেশে একদা নিষিদ্ধ বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দলটির ভূমিকা ও পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদে দলটির ছাত্রসংগঠনের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশান্বিত। তাদের কাছে ‘মধ্যপন্থী ইসলামি দল’ তকমা পাওয়া জামায়াতকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় দেখতে চায় দেশটি। ক্ষমতায় গিয়ে জামায়াত যদি তাদের কথা না শোনে, তাহলে শুল্ক আরোপসহ কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আজকের পত্রিকার পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটির হুবহু অনুবাদ তুলে ধরা হলো।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসের সেরা ফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর ওপর সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে। কঠোর হাতে দেশ পরিচালনাকারী এই নেত্রীর শাসনামলেই দলটি রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে কোণঠাসা ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে সন্তান পালনের দায়িত্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের ভাবমূর্তি কিছুটা বদলানোর চেষ্টা করছে। দলটি বলছে, এখন তাদের মূল লক্ষ্য দুর্নীতি দূর করা।

বাংলাদেশে দ্রুত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকেরা ইসলামপন্থী এই পুনরুত্থানশীল দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিত মিলেছে। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এক মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামঘেঁষা’ হয়ে উঠেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ফলাফল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে। অডিও রেকর্ডে এসব মন্তব্য শোনা যায়।

ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ জামায়াতের ‘প্রভাবশালী’ ছাত্রসংগঠন শিবিরের নেতাদের অনুষ্ঠানে আনতে পারবেন কি না, তা বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান তিনি। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আপনারা কি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? তাঁরা কি অনুষ্ঠানে আসবেন?’

নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি।জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেবে— এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি একেবারেই বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিতে পারবে।’ তিনি বলেন, দলটির নেতারা উদ্বেগজনক কোনো পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই শতভাগ শুল্ক আরোপ করতে পারে।

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “স্বর্ণের দাম কমল, ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা”

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে করে এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্ণের দামের সঙ্গে কমেছে রৌপ্যের দামও। প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

মানবজমিনের একটি শিরোন “টি-২০ বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ”

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে কি তবে কালো অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে? নাকি এটি আত্মমর্যাদা রক্ষার এক আপসহীন লড়াই! সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো বাংলাদেশ। খেলোয়াড় ও দলের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না টাইগাররা। নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৯৯’র পর এই প্রথম কোনো আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। গতকাল রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। উপস্থিত ছিলেন- নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল খেলোয়াড়দের কাছে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা। আইসিসি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও মাথা নত করতে নারাজ বাংলাদেশ। নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘বাস্তব’ ও ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে সরকার তাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই শঙ্কাকে হালকাভাবে দেখার বা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই।’

ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এটি কেবল বিসিবি’র অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল কেবল পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা এবং তাদের ব্যক্তিগত মতামত এখানে মুখ্য ছিল না। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সরকার, তাই কোনোভাবেই ক্রিকেটারদের বিপদের মুখে ঠেলে দিতে রাজি নন নীতিনির্ধারকরা। বৈঠকে খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা বা চাওয়ার চেয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশ্লেষণকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টার মতে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনাটি ছিল ‘প্রিভিলেজড কমিউনিকেশন’ বা গোপনীয় আলাপ, যেখানে তিনি সরকারকে কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো- তা বুঝিয়ে বলেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি আরও খোলাসা করেন। এই সিদ্ধান্ত যে অপরিবর্তনীয় এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণ সরকারের, তা তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট। আসিফ বলেন, ‘আপনাদের আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা- এটা আমাদের সরকারি সিদ্ধান্ত।’
নিরাপত্তা শঙ্কার মূল কারণ হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমানের সাম্প্রতিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে সামনে এনেছেন উপদেষ্টা। গত ৩রা জানুয়ারি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে এই বাঁহাতি পেসারকে আকস্মিকভাবে বাদ দেয়া হয়। আসিফ উল্লেখ করেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। যেখানে খোদ স্বাগতিক বোর্ড টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাদের নিজেদের লীগে একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। আইসিসি বা ভারত সরকার কেউ আশ্বস্ত করার মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি বা দুঃখপ্রকাশ করেনি। মোস্তাফিজের ঘটনাকে আইসিসি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখলেও বাংলাদেশ সরকার এটিকে দেখছে সুনির্দিষ্ট হুমকি হিসেবে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। উপদেষ্টা যোগ করেন, ‘ভারত আমাদের মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। তাহলে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক ও দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে এটা আমরা কিসের ভিত্তিতে বিশ্বাস করবো? ভারত আমাদের কনভিন্স করার কোনো চেষ্টাই করে নাই।’

আইসিসি’র সমালোচনায় বুলবুল: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসি’র ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘দ্বিমুখী’ আচরণের প্রতিবাদ জানান। আইসিসি’র সঙ্গে ২১শে জানুয়ারি মিটিংয়ে ঘটে যাওয়া কিছু বিষয়কে তিনি ‘শকিং’ বা বিস্ময়কর হিসেবে অভিহিত করেছেন। বুলবুল জানান, মোস্তাফিজ কোনো ইনজুরি বা ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়াননি, তাকে নিরাপত্তাজনিত কারণে জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ৪ঠা জানুয়ারি থেকেই বিসিবি আইসিসি’র কাছে বিকল্প ভেন্যুর দাবি জানিয়ে আসছে। অতীতেও নিরাপত্তার কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের বহু নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বা ২০০৩ বিশ্বকাপে যেমন নিরাপত্তা শঙ্কায় ভেন্যু বদল বা ওয়াকওভারের ঘটনা ঘটেছিল, তেমনি গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে হাইব্রিড মডেল ব্যবহার করা হয়েছিল। বাংলাদেশও ‘সি’ গ্রুপে থাকা ইংল্যান্ড, ইতালি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচগুলো ভারতের কলকাতা ও মুম্বইয়ের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই যৌক্তিক আবেদনে এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। উল্টো তারা চাপ প্রয়োগের কৌশল বেছে নিয়েছে, যা স্বাধীন ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের জন্য অবমাননাকর। বুলবুল বলেন, ‘মিটিংয়ে মোস্তাফিজের ঘটনাটাকে একটা সিঙ্গেল আইসোলেটেড ইরেলেভেন্ট ইস্যু বলা হয়েছে। এটা ইরেলেভেন্ট ইস্যু না, এটা ক্রিকেট খেলা ছিল এবং যেই দেশে খেলা ছিল দে আর দ্য সোল অথরিটি।’

আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল, যা গতকাল শেষ হয়েছে। তবে বিসিবি সভাপতি এই সময়সীমাকে অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মনে করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে হুট করে সময়সীমা চাপিয়ে দিতে পারে না। বাংলাদেশ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে। দল শ্রীলঙ্কায় খেলতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইসিসি’র ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া হলেও হাল ছাড়ছে না বোর্ড। বাংলাদেশের  মানুষের আবেগ ও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে আইসিসি সুবিচার করবে বলে এখনো আশা প্রকাশ করেন বিসিবি প্রধান। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তা শঙ্কা উপেক্ষা করে দল পাঠানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। বিসিবি এখনো অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছে, যেখানে আইসিসি তাদের জেদ থেকে সরে আসবে। বুলবুল দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘একটা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এভাবে ২৪ ঘণ্টা বেঁধে দিতে পারে না। উই উইল কিপ ফাইটিং। আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমাদের দল প্রস্তুত আছে।’