বিশ্বের বিনিয়োগ মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধ, শুল্ক হুমকি, ক্ষমতার টানাপোড়েন আর অস্থির কূটনীতি—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে ঝুঁকির হিসাব আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপক ও করপোরেট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভূ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারে লাভ ক্ষতির অঙ্ক কষতে এখন অর্থনৈতিক তথ্য বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঝুঁকির দোলাচলে বাজার
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি করে। এর আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং বাণিজ্য নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের চিন্তা বাড়িয়েছে। এসব ঘটনার প্রভাব শেয়ারবাজার থেকে মুদ্রাবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলে গেছে হিসাব
এক সময় বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে ভূরাজনীতি ছিল গৌণ বিষয়। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক সংকট একসঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিরূপণ এখন অনেক কঠিন। ফলে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং গ্রাহকদের জন্য আলাদা পরামর্শ তৈরি করছে।
ভেতরের সক্ষমতা বাড়ানোর দৌড়
বড় বিনিয়োগ সংস্থা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভেতরে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ শক্তিশালী করছে। কারও কারও ক্ষেত্রে বিশেষ দল গঠন হয়েছে, আবার কেউ স্বাধীন বিশ্লেষকের সহায়তা নিচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ দৃশ্যপট তৈরি করে বিনিয়োগ কৌশল সাজানো এখন সাধারণ চর্চা হয়ে উঠেছে।

নেতৃত্ব ঝুঁকি এখন মূল বিবেচনা
কিছু সার্বভৌম তহবিল ও বড় বিনিয়োগকারী এখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঝুঁকিকেও আলাদা করে মূল্যায়ন করছে। কোথায় ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে, কোন সিদ্ধান্ত হঠাৎ বাজারে ধাক্কা দিতে পারে—এসব প্রশ্নই বিনিয়োগের ভিত্তি হয়ে উঠছে। অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিই মূল অনুমান।
ভূরাজনীতি শীর্ষ অগ্রাধিকারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির দ্রুত পরিবর্তন ভূরাজনীতিতে বিনিয়োগকারীদের অগ্রাধিকারের শীর্ষে তুলে এনেছে। করপোরেট বোর্ড থেকে শীর্ষ নির্বাহী পর্যন্ত সবাই এখন নিয়মিতভাবে এই বিষয়ে আলোচনা করছেন। বাজারের গতি আগের চেয়ে দ্রুত, কঠিন ও অস্থির হয়ে উঠেছে।
পরামর্শক সংস্থার নতুন সুযোগ
এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্যাংক ও পরামর্শক সংস্থাগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্র চালু করেছে। স্বাধীন বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর চাহিদা বেড়েছে। ভেনেজুয়েলার মতো দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আগ্রহী করে তুলছে।
চাহিদার সঙ্গে জোগান কি পাল্লা দিচ্ছে
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের কারণে ভূরাজনৈতিক পরামর্শের চাহিদা যত দ্রুত বাড়ছে, জোগান তত দ্রুত বাড়ছে না। ফলে এই খাতে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি গভীর ও নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণের গুরুত্ব বেড়ে চলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















